সিরাজগঞ্জে গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় স্বামী ও ননদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
সিরাজগঞ্জে গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় স্বামী ও ননদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জিয়াছমিন খাতুন নামে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে তার স্বামী ও ননদের আদালত আজ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আর অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই রায় ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ মো. ইকবাল হোসেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার মোট আসামী ছিল ছয়জন। আদালত তাদের মধ্যে দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দোলন হোসেন প্রামাণিক এবং তার মেয়ে সুজনী খাতুন, যারা রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া গ্রামের শুকুর আলী প্রামাণিকের পরিবারের সদস্য। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন আবুল কালাম, আব্দুল হামি, আন্তাহার আলী ও রমেছা বেগম।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালে দোলন হোসেন প্রামাণিক ও জিয়াছমিন খাতুনের মধ্যে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিরোধ ও অনিয়মিত ঝগড়ার কারণে দোলন হোসেন তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই বিরোধ মিটানোর জন্য একাধিকবার শালিশি বৈঠকও করেছিলেন।

তবে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের চরম পর্যায়ে পৌঁছার পর ২০১৯ সালের ১৩ জুন দোলন হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা জিয়াছমিন খাতুনকে হত্যা করেন। নিহতের পিতা হাজী মো. ইউছুব আলী প্রামাণিক এই ঘটনায় রায়গঞ্জ থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে।

মামলার শুনানিতে আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে নিহতের স্বামী ও তার মেয়ে সুজনী খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপর চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। রায়ের পর আদালতকে স্বজনরা মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় আদালতের রায় একদিকে যেমন পরিবারের ক্ষতটি কমাতে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক সহিংসতা ও ঘরোয়া হিংসার বিষয়ে সমাজে একটি জোরালো বার্তা পাঠিয়েছে। এই রায়টি তুলে ধরেছে যে, গৃহবধূদের প্রতি সহিংসতা কখনো মেনে নেওয়া যায় না এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় সমাজকর্মী ও নারী অধিকার সংগঠনগুলোও এই রায়কে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, রায়টি ভবিষ্যতে গৃহনির্যাতন ও নারী হত্যার ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষণীয় প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় মানুষরা আশা করছেন, আদালতের এই রায় সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও গৃহস্থালির শান্তি রক্ষায় কার্যকর হবে। দণ্ডপ্রাপ্তরা কেবল ব্যক্তিগত শাস্তি ভোগ করবেন না, বরং এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে পরিবারের মধ্যে সহিংসতা এবং নারী নির্যাতন প্রতিহত করা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে, গৃহস্থালিতে নারীর প্রতি সহিংসতা বা অনৈতিক আচরণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তারা আশা করছেন, সমাজে নারী নির্যাতনের ঘটনা কমবে এবং পরিবারগুলোতে শান্তি বজায় থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত