প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নোয়াখালীর চাটখিল থানায় এক বিধবা নারীর অভিযোগ, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. অলি উল্লাহ তার ছেলের মুক্তির বিনিময়ে নানাভাবে হয়রানি এবং অশালীন প্রস্তাব দিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী (৪৮) সোমবার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনের কাছে তদন্তের জন্য ডাকা হন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তার ছেলেকে সাজানো মিথ্যা মাদকের মামলায় পুলিশ আটক করে। পরদিন আদালতে পাঠানো হয় এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশ তাকে আরেকটি মামলায় মিথ্যা সাক্ষী দিতে চাপ দেয়। ভুক্তভোগী নারী রাজি না হওয়ায় তাকে নানাভাবে হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর, ভুক্তভোগী নারীর বরাবর অভিযোগ, এসআই মো. অলি উল্লাহ, এএসআই নূর এবং পুলিশের অন্যান্য সোর্সের মাধ্যমে তাকে থানায় ডেকে আনা হয়। এরপর তিনি ছেলেকে বিভিন্ন হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ওই এসআইকে একান্তে সময় দিতে বাধ্য হন। এসময় এসআই মো. অলি উল্লাহ তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন, মুখের নেকাব খুলে খারাপ অঙ্গভঙ্গি দেখিয়েছেন এবং বাসায় গিয়ে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, না মানলে মা ও ছেলের উপর ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী আরও দাবি করেন, এলাকার মাদক ব্যবসায় জড়িত কিছু ব্যক্তি পুলিশের সহযোগিতায় তার ছেলের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করেছেন। তিনি নিরুপায় হয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত এসআই মো. অলি উল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ওই নারীকে চিনি না এবং তার সঙ্গে এ ধরনের আচরণের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করব।”
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বাদী ও বিবাদীদের হাজির করা হয়েছে এবং যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, এমন অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতি পুলিশের দায়িত্ব ও আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশি কর্তৃত্বের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি জনগণের প্রতি ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজে আইনের প্রতি আস্থা ও নিরাপত্তা ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নোয়াখালীর এই ঘটনা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে, যে কোনো ক্ষমতাসীন কর্মকর্তা, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তাদের দায়িত্বে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের উপর আস্থা হারাতে বাধ্য হয়।
অভিযোগের পর জেলা পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সকল প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারা আশা করছে, তদন্তে সত্য উদঘাটন হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
ভুক্তভোগী নারী এই ঘটনার পর মানসিক ও সামাজিকভাবে কঠিন অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় সমাজকর্মীরা তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ধরনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও পুলিশের সততার প্রতি জনগণের আস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। স্থানীয় জনগণও আশাবাদী, এই ঘটনার পর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার তাদের পুনরায় নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী পরিবেশে বসবাসের সুযোগ দেবে।