প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা — সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারিকভাবে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্তে শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের উন্নতি হচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুল আলম সোমবার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যমান ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকদের বেতন হবে ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা, যা আগের ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
এই উন্নয়ন প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার জানিয়েছে, পদগুলো ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী পূরণযোগ্য থাকবে। অর্থাৎ নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই বেতন কাঠামো প্রযোজ্য হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শিক্ষকদের প্রেরণা বাড়াবে এবং তাদের পেশাগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকেরা বেতন বৃদ্ধির জন্য আবেদন করে আসছিলেন। বিশেষ করে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা মূলত কম বেতনের কারণে কর্মপ্রেরণা হারাচ্ছিলেন। এই নতুন বেতন কাঠামো সেই সমস্যা অনেকাংশে সমাধান করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও ইতিবাচক বার্তা। এতে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা, কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর মনোযোগ আরও উন্নত হবে। সরকারি সূত্র জানায়, পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা বাড়াবে এবং স্কুল পরিচালনার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই নতুন বেতন কাঠামো তাদের দীর্ঘদিনের দাবির ফলাফল। অনেক শিক্ষকের কাছে এটি ছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি আশা, যা অবশেষে বাস্তবায়িত হলো। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে। শিক্ষকদের জন্য এটি শুধু আর্থিক স্বীকৃতি নয়, বরং পেশাগত মর্যাদারও বিষয়।
সরকারের এই উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে অভিমত শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা এবং আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।
এর ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষকরা আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে এবং স্কুলের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীর মান উন্নয়নে নতুন উদ্দীপনা পাবেন।