প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিস্ফোরক মামলায় পাঁচজন আওয়ামী লীগের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা বিএনপির মিছিলে ককটেল হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সিদ্দিকুর রহমান জানান, অভিযানটি রাতভর চলেছে এবং এতে দলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় বিভিন্ন এলাকা তল্লাশি করা হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. তৈবুর রহমান লাজু (৪৫), বেতদিঘী ইউনিয়নের খড়মপুর গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান (৫২), একই ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. মেজবাবুল রহমান (৩৭), তার সহোদর ওয়ার্ড যুবলীগের শিক্ষা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান (৩৬), এবং এলুয়াড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গা গ্রামের মৃত সায়েদ আলী মোল্লার ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান আলী (৫২)।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চলাকালীন সময়ে সন্দেহভাজনদের বাড়ি ঘর, আশেপাশের জায়গা এবং সম্ভাব্য লুকানো স্থানগুলো তল্লাশি করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কোনো বিস্ফোরক বা অবৈধ সরঞ্জাম পাওয়া গেছে কি না, তা দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত চলছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে যাতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় এবং সক্রিয় সন্ত্রাস বা সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, অভিযানের সময় পুরো এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশ একেবারে নীরবভাবে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন নেতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে। কেউ পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করলেও তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনে আরও টহল বৃদ্ধি করা হবে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অভিযান স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, এলাকার জনসাধারণ যাতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এবং কোনও ধরণের ভয় বা আতঙ্ক না ছড়ায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এই পাঁচ নেতা ফুলবাড়ী উপজেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। তাদের আটক হওয়ার ফলে রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্য কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়া মামলার তদন্ত চলাকালীন সময়ে স্থানীয়দের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলা সম্পর্কিত আরও তথ্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনও সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার জন্য দ্রুত তদন্ত চালানো হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এবং বিচারের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
এদিকে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অভিযান এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা সহিংস কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে। পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।