ঢাকা জাতীয় ঈদগাহে ড্রাম থেকে লাশ, বন্ধুকে সন্দেহ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার
ঢাকা জাতীয় ঈদগাহে ড্রাম থেকে লাশ, বন্ধুকে সন্দেহ

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ঢাকার জাতীয় ঈদগাহের সামনে দুটি প্লাস্টিক ড্রামের ভিতর থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে আশরাফুল হক (৩৫)। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১১নং গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রশীদের ছেলে। নিহতের মা ও বাবা অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মো. জরেজ আলী জড়িত থাকতে পারে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল হক পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ ও আদাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি ও সরবরাহের ব্যবসা করতেন। তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বাবা-মার সঙ্গে বসবাস করতেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ছোটবেলা থেকে আশরাফুলের বন্ধু মো. জরেজ আলীর সঙ্গে যৌথ ব্যবসা করতেন তিনি। কিন্তু কয়েক বছর আগে জরেজ মালয়েশিয়ায় চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে আবার প্রবাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এ জন্য আশরাফুলের কাছ থেকে টাকা ধার চেয়েছিলেন।

পরিবারের কথায়, গত শনিবার আশরাফুলের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে বাবা-ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বন্ধু জরেজও ঢাকায় আসেন। সেই রাতে তিনজন একসাথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আশরাফুল হকের স্ত্রী লাকি বেগম বারবার ফোন করলেও রিসিভ হয়নি।

পরবর্তীতে, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় ঈদগাহের সামনে দুটি প্লাস্টিক ড্রামের ভিতর থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে শাহবাগ থানার পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা ছবির মাধ্যমে মরদেহকে শনাক্ত করেন। নিহতের মা ও বাবা তৎক্ষণাৎ সন্দেহ করেছেন, আশরাফুলের ছোটবেলা ও ব্যবসায়িক বন্ধু মো. জরেজ এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

পরিবারের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ছোটবেলা থেকে বন্ধু থাকার কারণে আশরাফুল এবং জরেজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে বন্ধু হিসেবে ধার চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। আশরাফুলের বাবা আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, “জরেজ আমাদের বলেছিল জাপান যাওয়ার জন্য অনেক টাকা লাগবে। এ জন্য আমার ছেলে আশরাফুল টাকা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটলো।”

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, আশরাফুল একজন নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকার মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতের বাড়িতে আহাজারি ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং আশপাশের এলাকার মানুষ লাশের সঙ্গে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাড়িতে ভিড় করেছেন।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। পরিবার আশা করছে, পুলিশের তদন্ত দ্রুত এবং যথাযথ হবে। তারা বলেছেন, হত্যার পেছনের আর্থিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও অনুসন্ধান করা হোক।

ঘটনাটি শুধুমাত্র এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি পারিবারিক বিশ্বাসঘাতকতা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং বন্ধুত্বের জটিলতার এক দৃষ্টান্ত। হত্যাকাণ্ডে দুইটি ড্রামে লাশ পাওয়া এবং তার খণ্ডিত অবস্থা পুরো ঘটনা আরও নৃশংসভাবে তুলে ধরেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকারীর সন্ধান দ্রুত পাওয়া না গেলে নিরাপত্তা এবং পারিবারিক শান্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাই তারা পুলিশের কাছে কার্যকর ও তৎপর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মোটকথা, ঢাকা জাতীয় ঈদগাহের সামনের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আশরাফুল হকের মৃত্যু একদিকে পারিবারিক ভাঙন ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন, অন্যদিকে পুলিশি তদন্তের তৎপরতা ও ন্যায়বিচারের ওপর মানুষের বিশ্বাস পরীক্ষা করে।

ফলে আশা করা হচ্ছে, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা হবে এবং পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এটি এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবেও ধরা যেতে পারে, যেখানে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের সম্পর্কের জটিলতা কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত