প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এক বড় হুমকির খবর জানিয়েছেন কানাডার সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এরিক ডায়গল। তিনি সম্প্রতি দাবি করেছেন, ‘ক্যাটওয়াচফুল’ নামের একটি অ্যাপ গোপনে স্মার্টফোনের ই–মেইল ঠিকানা, পাসওয়ার্ড, বার্তা, ছবি, অবস্থানসহ নানা সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে এবং এসব তথ্য গোপনে গুগলের ফায়ারবেস ডাটাবেসে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
এরিক ডায়গলের ভাষায়, এই অ্যাপটিকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের সরঞ্জাম হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে। ব্যবহারকারীর অজান্তেই এটি ফোনের মাইক্রোফোন চালু করে আশপাশের শব্দ রেকর্ড করতে পারে, এমনকি সামনের ও পেছনের ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করতেও সক্ষম। এর ফলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সম্পূর্ণভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে নেই। ফলে এটি সরাসরি ডাউনলোড করে ফোনে ইনস্টল করতে হয়, যা ‘সাইডলোডিং’ নামে পরিচিত। সাইডলোডিং পদ্ধতিতে ইনস্টল করার পর ক্যাটওয়াচফুল নিজেকে এমনভাবে লুকিয়ে ফেলে যে সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে তা সহজে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। এটি ‘সিস্টেম অ্যাপ’ হিসেবে নিজেকে আড়ালে রাখে, ফলে সাধারণ অ্যাপ অপসারণের নিয়মে এটি মুছে ফেলা কঠিন হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্যাটওয়াচফুল’ মূলত স্টকারওয়্যার হিসেবে কাজ করছে। এই ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে কেউ চাইলেই অন্যের ফোনে নজরদারি চালাতে পারে। এ কারণে এরিক ডায়গলসহ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের দ্রুত এই অ্যাপটি ফোন থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি বিশ্লেষকরাও বলছেন, এমন ক্ষতিকর অ্যাপ থেকে বাঁচতে হলে অচেনা ও সন্দেহজনক অ্যাপ কখনোই ফোনে ইনস্টল করা উচিত নয়। বিশেষ করে কোনো অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থেকে ডাউনলোড করতে হলে তা অবশ্যই যাচাই–বাছাই করে নিতে হবে। অ্যাপ নির্মাতার তথ্য, রিভিউ ও বিশ্বস্ত উৎসের খবর beforehand জেনে নেওয়া জরুরি।
অনেক সময় প্রলোভন দেখিয়ে বা ভুল তথ্য দিয়ে এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারকারীর ফোনে প্রবেশাধিকার পায়। ব্যবহারকারীরা সচেতন না থাকলে সহজেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের প্রতি পরামর্শ, ফোনের সেটিংসে গিয়ে যে কোনো অজানা অ্যাপের অনুমতি নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের গোপন নজরদারি ঠেকাতে শুধু প্রযুক্তি নয়, ব্যবহারকারীর সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। প্রযুক্তির এই যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় সতর্কতা ও সচেতনতার বিকল্প নেই।