প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনকে শোকের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে দেশটির জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী হুমাইরা আসগর আলীর অস্বাভাবিক মৃত্যু। মঙ্গলবার করাচির অভিজাত এলাকা ডিফেন্স ফেজ-৬ এর ইত্তেহাদ কমার্শিয়াল ব্লকের একটি বহুতল ফ্ল্যাট থেকে তার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামাটিভি। মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, হুমাইরা আসগর ওই ফ্ল্যাটে গত সাত বছর ধরে একাই বসবাস করতেন। ২০১৮ সালে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিলেও ২০২৪ সালের পর থেকে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ বন্ধ হয়ে যায়। ভাড়া বাকি থাকায় ভবনের মালিক ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ক্লিফটনের (সিবিসি) কাছে বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেন এবং আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার ফ্ল্যাটটি খালি করতে গিয়েই সবার সামনে আসে হুমাইরার মৃত্যু রহস্য।
পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, মৃত্যুর সময় হুমাইরার বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে ছিল। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, মৃতদেহটির অবস্থা দেখে অনুমান করা হচ্ছে এটি অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন আগের, অর্থাৎ বহুদিন ধরে কোনো সাড়া-শব্দ ছাড়াই ফ্ল্যাটের ভেতরে পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। এখনও স্পষ্ট নয় এটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। করাচির জিন্নাহ হাসপাতালে তার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
পাকিস্তানি বিনোদন জগতের অনেকেই হুমাইরার এই অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘তামাশা ঘর’ এবং ‘জালাইবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার অপ্রত্যাশিত মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে চলছে নানামুখী আলোচনা।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন এতদিন ধরে কেউ তার কোনো খোঁজ নিল না, একাই বা কীভাবে এতদিন ফ্ল্যাটে পড়ে রইলেন তিনি? পুলিশ এ বিষয়ে তার বন্ধু, আত্মীয়-পরিজন এবং পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ফ্ল্যাটের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কোনো সন্দেহজনক কিছু ছিল কি না তা খুঁজে বের করতে।
এখন হুমাইরার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে করাচি থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ও সিবিসি কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে। Meanwhile, পাকিস্তানের শোবিজ অঙ্গনের আরেকটি আলোচিত নাম হারিয়ে যাওয়া নিয়ে শোক ও প্রশ্ন দুই-ই ঘনীভূত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।