ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, অনলাইনে ছড়ানো মিথ্যা, বানোয়াট ও প্রতারণামূলক তথ্যের বিরুদ্ধে তিনি শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা নেবেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভুঁইফোড় প্রোপাগাণ্ডা পেজগুলো তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা ব্যক্তিগত মানহানিসহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা রাইসুল ইসলামের সুপারিশ পাওয়ার পরপরই তার নামে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত) খোদা বখস চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি মূলত এই নেতাদের কাছে রাইসুল ইসলামসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সাদিক কায়েম বলেন, “গত কয়েক দিনে কিছু ভুঁইফোড় পেজ থেকে আমার নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে। এসব ফটোকার্ডের মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রোপাগাণ্ডা শুধুমাত্র আমাকে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থাকেও বিঘ্নিত করছে।” তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, এসব পেজের বিরুদ্ধে সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা শুরু হবে।

ডাকসু ভিপি বলেন, অনলাইনে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য এবং বিভ্রান্তিকর পোষ্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীরা জানে যে এই ধরনের অপপ্রচারের কোনো ভিত্তি নেই, তবে তা সাধারণ জনগণ বা অনান্য শিক্ষার্থীদের কাছে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই তিনি শৃঙ্খলা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এছাড়া, তিনি বলেন, রাইসুল ইসলামের মতো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের প্রভাব ও সুপারিশের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই শুধুমাত্র তার ওপর মনোযোগ না দিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, তিনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন যাতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ দ্রুত এবং কার্যকর হয়।

সাদিক কায়েমের এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা বজায় রাখার একটি উদাহরণ। তিনি অনলাইনে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রচারের গুরুত্বকেও সামনে এনেছে। তার বক্তব্য, কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইন অপপ্রচারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত মানহানি ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। “আমি চাই না যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারকে স্থান দেওয়া হোক। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যারা আইনভঙ্গ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”–এভাবে তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতীকী প্রতিষ্ঠান। সেখানকার নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচারের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। সাদিক কায়েম এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনমাফিক পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, যা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অভিযোগ অনুসারে, ভুঁইফোড় পেজগুলোতে তার নামে বিভ্রান্তিকর ছবি ও তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয়কে হানিকর নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। তাই তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এসব পেজের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাদিক কায়েমের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইনের প্রতি সচেতনতা ও ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এটি অনলাইন অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরে সত্যের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করবে। শিক্ষার্থী নেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংক্ষেপে, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে, তিনি মিথ্যা, প্রতারণামূলক এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি বজায় রাখা এবং সামাজিক মাধ্যমের অপপ্রচার প্রতিরোধের জন্য একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত