সর্বশেষ :

১৪০ রানে ইংল্যান্ডের পতন, কিউইদের নাজেহাল দশা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
১৪০ রানে ইংল্যান্ডের পতন, কিউইদের নাজেহাল দশা

প্রকাশ: ৫ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্রিকেট যখন ফিরে যায় তার আদি ও অকৃত্রিম রূপে, তখন লাল বলের লড়াই হয়ে ওঠে রোমাঞ্চকর এক মহাকাব্য। লর্ডসের বাইশ গজে আজ ঠিক তেমনই এক দৃশ্যপটের অবতারণা হলো। যে মাঠকে বলা হয় ক্রিকেটের মক্কা, সেখানেই আজ পেস বোলারদের দাপটে অসহায় আত্মসমপর্ণ করতে দেখা গেল ব্যাটারদের। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল যেন বোলারদের স্বর্গ আর ব্যাটারদের বিভীষিকা। বল হাতে আগুন ঝরানো পারফরম্যান্সে কাইল জেমিসন আর অলি রবিনসনরা প্রমাণ করলেন, সুইং আর সিম মুভমেন্ট থাকলে বড় বড় ব্যাটাররাও অসহায় হয়ে পড়েন। দিনের শেষে scoreboard বলছে, এটি কেবল একটি টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের চিত্র নয়, বরং লড়াইয়ের এক অভাবনীয় সমীকরণ।

দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে নিজেদের চেনা কন্ডিশনে বড় সংগ্রহের প্রত্যাশা ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা শুরুর কয়েক ওভারের মধ্যেই ধূলিসাৎ করে দেন কাইল জেমিসন। দুই বছরেরও বেশি সময় পর সাদা পোশাকে ফিরে জেমিসন যেন তার পুরোনো ছন্দে ফেরার বার্তা দিলেন গর্জন করে। সুইংয়ের জাদুতে তিনি এতটাই বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন যে, ইংলিশ ব্যাটাররা বলের লাইনে আসতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন। শুরু থেকেই সফরকারী বোলাররা বলকে কথা বলাচ্ছিলেন। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর লর্ডসের বাতাসকে কাজে লাগিয়ে বলকে উভয় দিকেই মুভ করিয়েছেন কিউই পেসাররা।

ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে যায় মূলত জেমিসনের নিয়ন্ত্রিত ও ক্ষুরধার বোলিংয়ে। একে একে সাজঘরে ফিরে যান রোরি বার্নস, জ্যাক ক্রলি এবং ওলি পোপ। অধিনায়ক বেন স্টোকসও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার যখন নামেন, তখন দলের অবস্থা ছিল নড়বড়ে। কিন্তু তার ওপর ভরসা করার সুযোগটুকুও ইংলিশ ভক্তরা খুব একটা পাননি। জেমিসনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে স্টোকসের বিদায় ঘটলে ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে তখন শ্মশানের নীরবতা। হ্যারি ব্রুক দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। দলের প্রয়োজনে তার ব্যাট থেকে আসে ৫৬ রানের লড়াকু ইনিংস। কিন্তু এক প্রান্তে প্রতিরোধের দেয়াল গড়েও অন্য প্রান্তের ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে খুব বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। নিজেদের মাঠের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটি ইংল্যান্ডের সর্বনিম্ন স্কোর।

জেমিসনের ৫ উইকেটের পাশাপাশি ন্যাথান স্মিথ ৩ উইকেট এবং উইল ও’রোর্ক শিকার করেন ২টি উইকেট। সফরকারী বোলারদের নিখুঁত লাইন-লেন্থের কাছে ইংলিশদের টেকনিক যেন ছিল একেবারেই নগণ্য। ব্যাটিংয়ের এই বিপর্যয় লর্ডসের দর্শকদের ভীষণভাবে হতাশ করলেও, বল হাতে ইংল্যান্ডের বোলাররা যেভাবে ম্যাচে ফিরলেন, তা ছিল অকল্পনীয়। মাত্র ১৪০ রানের পুঁজি নিয়েও ইংল্যান্ডের পেসাররা যে তেজোদীপ্ত শুরু করলেন, তা ক্রিকেটের ইতিহাসে দীর্ঘদিন চর্চিত হবে।

দ্বিতীয় ওভারেই নিউজিল্যান্ডের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন অলি রবিনসন। তার বোলিং তোপে নিউজিল্যান্ডের প্রথম সারির তিন ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন মাত্র ২ রান যোগ করতেই। মাত্র ২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর কিউইরা তখন প্রবল চাপে। লর্ডসের গ্যালারিতে তখন উল্লাসের জোয়ার। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপদ কেবল ওই শুরুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রবিনসন ও ক্রিস ওকসদের সুইং ও সিম মুভমেন্টে কিউইদের টপ অর্ডার ব্যাটাররা দিশেহারা হয়ে পড়েন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে মাত্র ২৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে নিউজিল্যান্ড। মনে হচ্ছিল, হয়তো একশ রানের নিচেই গুটিয়ে যাবে কিউইদের ইনিংস।

এমন বিপর্যয়ের মুহূর্তে দলের হাল ধরেন গ্লেন ফিলিপস। তার শান্ত ও স্থির ব্যাটিং কিউইদের বড় লজ্জা থেকে বাঁচায়। প্রান্ত আগলে রেখে তিনি যেভাবে রবিনসনদের সামলেছেন, তা এক কথায় প্রশংসনীয়। দিনের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে তিনি ৩১ রান সংগ্রহ করেন। তার সঙ্গী ন্যাথান স্মিথ অপরাজিত আছেন ৬ রানে। প্রথম দিনের খেলা শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৬১ রান। তারা এখনও ইংল্যান্ডের চেয়ে ৭৯ রানে পিছিয়ে আছে। ম্যাচের পরবর্তী দিনগুলোতে কী ঘটবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে প্রথম দিনে বল হাতে যে শ্রেষ্ঠত্ব বোলাররা দেখিয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবেই এই লর্ডস টেস্টকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে বোলাররা যেভাবে শাসন করলেন, তাতে এটি স্পষ্ট যে আগামী কয়েক দিন লর্ডসের বাইশ গজ হবে কেবল ধৈর্যের পরীক্ষা। ইংল্যান্ডের বোলাররা কি পারবেন কিউইদের দ্রুত অলআউট করে দিতে? নাকি গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটে ভর করে কিউইরা ম্যাচে ফিরবে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন ক্রিকেট বিশ্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত