আমন সংগ্রহে অনিয়ম বরদাস্ত হবে না: খাদ্য উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার
আমন সংগ্রহে অনিয়ম বরদাস্ত হবে না: খাদ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সোমবার অনুষ্ঠিত জেলা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আমন সংগ্রহ ও খাদ্যশস্য মজুত বিষয়ক মতবিনিময় সভায় খাদ্য উপদেষ্টা কৃষকদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, চলমান আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না এবং যারা এর মধ্যে লিপ্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় নির্বাচনের কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসক, মাঠ প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকবেন। তাই ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ধান সংগ্রহে মিলারদের সহযোগিতা করার জন্য খাদ্য অধিদফতর ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের সমর্থন প্রদান করবে। তিনি আরও বলেন, ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণকারী মিলারদের অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি কমানো সম্ভব হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই দেশের জন্য সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

উপদেষ্টা জানান, আমন মৌসুমের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং এটি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। কৃষকরা যখন ধান নিয়ে আসবেন, তাদের ফেরত দেওয়া হবে না, তবে ধানের আর্দ্রতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কোনো গুদামে পচা বা নিম্নমানের ধান গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সবাইকে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম ঘটলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

উপদেষ্টা আরও জানান, চলতি বছরের জন্য ধান-চাল সংগ্রহের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ধান ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ৩৪ টাকা, সিদ্ধ চালের জন্য প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং আতপ চালের জন্য প্রতি কেজি ৪৯ টাকা। সরকারের লক্ষ্য শুধু টার্গেট পূরণ নয়, বরং দেশের জন্য সর্বোচ্চ পরিমাণ ধান মজুদ রাখা। তিনি আশ্বাস দেন যে দায়িত্বপূর্ণভাবে কাজ করলে দেশের খাদ্য মজুত সক্ষম হবে এবং পরবর্তী সরকারের জন্য সুবিধাজনক অবস্থায় রাখা সম্ভব হবে।

খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবির জানান, মিলারদের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাবে না। সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে আমন সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সভায় এ ছাড়াও দেবিদ্বার উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলএসডির রাস্তার জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খাদ্য উপদেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে সড়ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই উদ্যোগ থেকে বোঝা যায় যে খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সরকারি পর্যায়ে নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে দেখা যায়, এই সভার মাধ্যমে খাদ্য উপদেষ্টা দেশব্যাপী আমন সংগ্রহ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মিলার ও কৃষকদের কাছে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে জোর দিয়েছেন। তিনি পুনরায় বলেছেন, ধান সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণের সঙ্গে সঙ্গে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের উপযুক্ত মূল্য দিতে কার্যক্রম চলবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।

এই উদ্যোগের ফলে আশা করা হচ্ছে, চলতি আমন মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান সংগ্রহ হবে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে এবং খাদ্যশস্যের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। পাশাপাশি সরকারের লক্ষ্য হল, ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও কার্যকর করা, যাতে মিলার, কৃষক এবং প্রশাসন সবাই একযোগে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত