ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের চার কর্মকর্তার পদত্যাগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪ বার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা পদত্যাগ

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের চার সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে জানা গেছে আগামী ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন এবং সাধারণ সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া জটিলতা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) তারা সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সিনিয়র কর্মকর্তাদের দ্বারা সমিতির স্বার্থ রক্ষার্থে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন ও সাধারণ সভা আয়োজন না হওয়ায় সমিতির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পদত্যাগপত্রে তারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সমিতির সার্বিক স্বার্থে বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।

জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর সমিতির স্বার্থ রক্ষার্থে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। এই নতুন উপদেষ্টা পরিষদে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট, গ্রিন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিট এবং জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে সমিতির চলতি কমিটির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় উপদেষ্টা পরিষদ সাধারণ সভা ও নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের চার কর্মকর্তার পদত্যাগ ঘটে।

পদত্যাগকারী চার সদস্য হলেন — উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক ও এস্টেট প্রধান মো. আলাউদ্দিন, সদস্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ওয়ালিউর রহমান, উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. গোলাম মওলা এবং উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মীর সিরাজুল ইসলাম।

উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, “কর্মকর্তা সমিতির চলতি কমিটির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে হওয়ায় আমরা নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু উপদেষ্টা এখনই নির্বাচন আয়োজন করতে চাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে সকল কর্মকর্তার মতামত জিজ্ঞাসা করি। এতে ৪০৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেছেন এবং ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানানো হয়েছে।”

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা সমাজে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা সমিতি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও সাধারণ সভার আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তাদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সমিতির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও প্রশাসনিক স্বার্থে অপরিহার্য।

উপদেষ্টা পরিষদের পদত্যাগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি নির্দেশ করছে, সমিতির অচলাবস্থা দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে সমিতির নির্বাচন ও সাধারণ সভার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মকর্তা সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, পদত্যাগের পরও সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু সমিতির স্বার্থ নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমগ্র প্রশাসনিক স্বার্থকেও রক্ষা করবে।

পদত্যাগের ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণ করছে। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়, মতামতের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপদেষ্টা পরিষদের চার কর্মকর্তার পদত্যাগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে। আগামী দিনে সমিতির নির্বাচন আয়োজন, সাধারণ সভার আয়োজন এবং অচলাবস্থা নিরসনের মাধ্যমে সমিতি পুনরায় কার্যকরীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও তাদের কর্মকর্তা সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত