আজ সন্ধ্যায় ঘোষিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল বৃহস্পতিবার ঘোষণা

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সন্ধ্যার প্রতীক্ষায় আজ পুরো বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন নির্বাচন-যাত্রা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। সেই ভাষণেই প্রকাশ করা হবে বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল। ভোটের তারিখসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনার বিষয়টি জানার অপেক্ষায় রয়েছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচন পর্যবেক্ষক মহল এবং সাধারণ ভোটাররা।

তফসিল ঘোষণার আগের দিন বুধবার বিকেলেই নির্বাচন ভবন যেন ব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে। বিকাল ৪টার পর সিইসির ভাষণ রেকর্ড করতে নির্বাচন ভবনে হাজির হন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তারা। ভাষণ রেকর্ড শেষে সিইসি তাঁর কক্ষে বসিয়ে অপর চার নির্বাচন কমিশনারকে তফসিলের মূল বিষয়গুলো অবহিত করেন। পরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরই জাতির উদ্দেশে ভাষণ প্রচারিত হবে। সেই ভাষণের মাধ্যমেই দেশের মানুষের জানা যাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুটোই কোন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী আয়োজনে কোনো ধরনের বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত সময়সীমা হবে ৬০ দিন। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যভাগে তফসিল ঘোষণার অর্থ দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের পথে পা রাখছে, যেখানে নতুন বছরের শুরুতেই হতে পারে ভোটগ্রহণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, গণতান্ত্রিক বিকাশ এবং জনমতের প্রতিফলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করবে।

তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ থেকে শুরু করে ব্যালট পেপার প্রস্তুত, ব্যালটের রঙ নির্ধারণ, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, মক ভোটিংয়ের ব্যবস্থা এবং ভোট গণনার পদ্ধতি—সবকিছুতেই কাজ এগিয়েছে প্রক্রিয়া অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশন বলছে, অতীতের চেয়ে আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং নির্ভরযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই তাদের মূল লক্ষ্য।

নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে রেওয়াজ অনুযায়ী বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেন সিইসি নাসির উদ্দিন ও তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরা হয় কমিশনের সব ধরনের প্রস্তুতি ও নির্বাচন-সংক্রান্ত অগ্রগতির চিত্র। বৈঠকের পরে কমিশনের সদস্যরা কোনো মন্তব্য না করলেও নির্বাচন কমিশনে ফিরে এসে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতির কাছে কমিশন ভোট আয়োজনের পূর্বপ্রস্তুতির সবকিছু ব্যাখ্যা করেছে এবং রাষ্ট্রপতি প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সবকিছু অনুকূলভাবে এগোচ্ছে।

এমন এক সময়ে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে, যখন বাগেরহাটের সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটি করার যে গেজেট নির্বাচন কমিশন জারি করেছিল, তা আপিল বিভাগ ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেন। ফলে কমিশন বাধ্য হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের আগের সীমানাই পুনর্বহাল করে। বুধবার রাতেই কমিশন নতুন গেজেট অনুমোদন করে ৩০০ আসনের তালিকা পুনরায় প্রকাশ করে। এতে বাগেরহাটের আসন সংখ্যা আবারও চারটিতে ফিরে যায় এবং গাজীপুরের পাঁচটি আসনও অপরিবর্তিত থাকে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনআস্থাকে আরও দৃঢ় করবে।

নির্বাচনী মাঠে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই, সভা-সমাবেশ, মাঠ পর্যায়ের প্রচারণা সংগঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনকে উন্নয়ন ধারার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ভোটকে গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে আগামী নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হয়, সব রাজনৈতিক দল শেষ পর্যন্ত অংশ নেয় কি না—এসব প্রশ্নে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে।

একই সঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা-প্রতিক্রিয়া। অনেকে নির্বাচনে নতুন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন, কেউবা পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে সকলের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রত্যাশা—একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ, আস্থার নির্বাচন।

আজ সন্ধ্যায় সিইসির ভাষণ সম্প্রচারিত হলে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সামনে উন্মোচিত হবে ভোটের সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার, যা আগামী মাসগুলোর জাতীয় রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া জনগোষ্ঠীর জাগ্রত আগ্রহ এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবই নির্ভর করবে আজকের ঘোষণার ওপর।

দেশজুড়ে যখন নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি, তখন রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের কৌশল সাজাতে ব্যস্ত। আর সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছে ভোটের দিন নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য। তফসিল ঘোষণা মানেই নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়বে, আর রাজনৈতিক মাঠে ঝুঁকে পড়বে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাল্লা।

আজ সন্ধ্যা ৬টা—বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু একটি সময় নয়, গণতন্ত্রের পথচলার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত