প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. সামিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসামি তোফায়েলের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিচয় হয় ফেসবুকে। দুইজন মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তোফায়েল তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন, তবে তরুণী রাজি হননি। এরপর আসামি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করান। ৩১ জানুয়ারি গুলশানের একটি হোটেলে তাকে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে গিয়ে প্রথম ধর্ষণ সংঘটিত হয়। তখনই তোফায়েল তরুণীকে আশ্বাস দেন অল্প দিনের মধ্যে বিয়ে করবেন।
তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন, এবং যখন তরুণী বিয়ের কথা জানতে চায়, তখন তোফায়েল বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী ১ আগস্ট গুলশান থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে হাইকোর্ট তাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। তবে জামিন শেষ হওয়ার আগেই তিনি ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনা মামলার দাখিলের ছয় মাস আগে ঘটায় সরাসরি আলামত সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। বাদী নিজেও কোনো আলামত সরবরাহ করতে পারেননি। তবে হোটেলের রেজিস্ট্রার বুকের গেস্ট বুকিং, তরুণী ও আসামির পাসপোর্ট কপি জব্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ধর্ষণের সময় তৈরি মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণাদি তদন্তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি না পাওয়া গেলেও অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার প্রথমদিনের বিবরণ, হোটেল বুকিং কপি এবং মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে আসামি তোফায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণ মামলায় ক্রিকেটার তোফায়েলের বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালতে দাখিল হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আদালত সাক্ষীদের শপথগ্রহণ করিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করবেন।
মামলাটির প্রাথমিক তথ্য এবং অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ঘটনা পরিকল্পিত এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতেই শুরু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের পর আসামি তার ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করেছেন। আদালতে এই বিষয়গুলি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার মাধ্যমে ক্রিকেটাঙ্গনের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি দায়িত্বশীলতার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। সমাজে নারী ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ করতেই এই মামলা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
পরবর্তী সময়ে আদালত, সাক্ষী এবং তদন্ত কর্মকর্তারা মামলার বিবরণ যাচাই করে, প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। এ ঘটনায় সমাজে সচেতনতা এবং আইনের প্রতি আস্থা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।