গুলিবিদ্ধ হাদিকে দেখতে ঢামেকে যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস-রিজভী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৯ বার
গুলিবিদ্ধ হাদিকে দেখতে ঢামেকে যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস-রিজভী

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর চলা সশস্ত্র হামলার প্রেক্ষিতে বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ শুক্রবার দুপুরে তাকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর হাদিকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তার অবস্থা চিকিৎসকরা তদারকি করছেন।

ঘটনা ঘটে দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্ট এলাকায়, যখন হাদি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাদিকে লক্ষ্য করে দুজনের একটি মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালানো হয়। হামলার পর এলাকায় উপস্থিত মানুষজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হাদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, হাদির বাম কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শুনেছি, তিনি বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। টিমের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।”

হামলার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ভয়ভীতি বা সশস্ত্র হুমকির মাধ্যমে কোনো প্রার্থীকে বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাদির ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফখরুল ইসলাম হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে তৎপরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণত উত্তেজনা থাকলেও, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সশস্ত্র হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। হাদির ওপর হামলা দেশবাসীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

হামলার মানবিক প্রভাবও স্পষ্ট। হাদির পরিবার, দলের নেতা-কর্মী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। হাসপাতালের বাইরে নেতাকর্মীরা হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন। এই হামলা শুধু এক প্রার্থীকে লক্ষ্য করে করা হয়নি, বরং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনী সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার পেছনের সকল তথ্য সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই, এবং পরিকল্পিত কোন কৌশল থাকলে তা উন্মোচনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসন সব পক্ষের জন্যই এটি একটি সতর্কবার্তা। রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ, আহত প্রার্থীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত তদন্ত চলা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হাদির চিকিৎসার পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হাসপাতাল ভ্রমণ প্রমাণ করছে দলটি আহত প্রার্থীর প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছে এবং নির্বাচনী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে তুলে ধরছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যতই উত্তেজনাপূর্ণ হোক না কেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বানও দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত