জুলাই অভ্যুত্থানের অভিঘাত পেরিয়ে, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্গঠনে বিশেষ কর্মশালা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৯ বার

 

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক বাঁকবদলের নাম, তবে এই রাজনৈতিক রূপান্তরের সাথে জড়িয়ে আছে মানুষের গভীর মানসিক ক্ষত আর অস্পষ্ট আতঙ্কের ছায়া। অনিশ্চয়তা, সহিংসতা আর স্বজন হারানোর বেদনা অনেকে এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন নীরবে। এমন বাস্তবতায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্গঠনের প্রয়াসে বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হলো এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি), জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং হোপওয়েভ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই চার ঘণ্টাব্যাপী কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ নেতৃত্বপ্রত্যাশী ও কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য একটাই—কিভাবে সমাজের ভেতর সংকট-পরবর্তী মানসিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, কিভাবে ট্রমার অভিঘাত সামলাতে সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলা যায়, আর কিভাবে ব্যক্তিগত সুস্থতা থেকে সমষ্টিগত সুস্থতার পথে যাওয়া যায়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের ঘটনার অভিঘাত সহজে মুছে যাওয়ার নয়। সহিংসতা আর আতঙ্ক বহু মানুষের মনোজগতে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে। এই কর্মশালা সেই ক্ষত প্রশমনের পথে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠিত প্রয়াস।’ তিনি আশাবাদী, অংশগ্রহণকারীরা শুধু নিজেদের নয়, চারপাশের মানুষের মানসিক পুনর্গঠনেও বড় ভূমিকা রাখবেন।

বিএপি-এর সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘কেবল অবকাঠামো নয়, কোনো জাতির প্রকৃত শক্তি তার মানুষের মনের দৃঢ়তায়। আমরা যদি আহত ও শহীদদের জন্য দায়িত্বশীল ও যত্নবান মন না গড়ে তুলতে পারি, তাহলে জাতিগত অগ্রগতি অস্থায়ী হবে।’ তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, সুস্থ মন না হলে টেকসই উন্নয়নও সম্ভব নয়।

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান হোপওয়েভ-এর প্রতিষ্ঠাতা মুনিমাহ মাহরীন জানান, দেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো সচেতনতা কম। অথচ একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতায় মানসিক দৃঢ়তা আর স্থিতিশীলতাই জীবনের বড় সম্পদ। ‘আমরা চাই, তরুণেরা নিজেরা যতটা সম্ভব সচেতন ও সহনশীল হোক, একই সঙ্গে অন্যদের জন্যও নিরাপদ মানসিক জায়গা তৈরি করুক।’

আয়োজকরা এই কর্মশালাকে একটি ট্রমা-সচেতন, সহানুভূতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অংশগ্রহণকারীরা যে নতুন জ্ঞান, পদ্ধতি ও সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে বেরিয়ে গেছেন, তা ছড়িয়ে যাবে দেশের আনাচে-কানাচে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

এক বছরের ব্যবধানে জুলাই অভ্যুত্থান পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন মানসিক যাত্রাপথে হাঁটছে, আর এই পথের প্রতিটি পদক্ষেপেই শোনা যাচ্ছে পুনর্গঠনের আর এক হয়ে দাঁড়াবার প্রত্যয়ী প্রতিধ্বনি।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত