প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকায় ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, যা অনুষ্ঠিত হবে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে। মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই মেলার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ জনগণ বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক পণ্য ও সেবার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, এবারের মেলায় অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মেলায় ই-টিকিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন-স্পট টিকিট ক্রয় করার পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট ক্রয়পূর্বক কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশ করা যাবে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য আরও সুবিধাজনক হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান এবং ইপিবির মহাপরিচালক বেবি রাণী কর্মকার। তারা জানান, মেলা শুধু ব্যবসায়িক লেনদেনের একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য নতুন বাজার ও ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মেলায় প্রদর্শিত পণ্য ও সেবার মধ্যে থাকবে তথ্য প্রযুক্তি, কৃষি, হ্যান্ডিক্রাফট, খাদ্য ও পানীয়, ফ্যাশন ও পোশাক শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত। এই বিস্তৃত পরিসরের কারণে মেলা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আকৃষ্ট করবে এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ করে দেবে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, “ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপক। এটি স্থানীয় উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করবে। মেলায় অংশগ্রহণকারীরা পণ্য প্রদর্শন, বিক্রয়, বাজারজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গঠনের সুযোগ পাবেন।”
মেলার মূল লক্ষ্য হলো দেশের রপ্তানি খাতকে প্রসারিত করা এবং উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। মেলার মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার যোগ্য করে তোলা এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
ই-টিকিটিং ব্যবস্থা এবং অনলাইনে স্টল/প্যাভিলিয়ন বুকিং মেলাকে আরও আধুনিক ও সুবিধাজনক করেছে। এতে মেলার আয়োজকরা অংশগ্রহণকারীদের ভ্রমণ ও প্রবেশের প্রক্রিয়াকে সহজ করেছেন। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিনিধি দলও থাকবেন, যারা বাংলাদেশে ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ যাচাই করতে সক্ষম হবেন।
বাণিজ্য সচিব উল্লেখ করেন, মেলার সময় বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে। এতে উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ও বিপণনের কৌশল সম্পর্কে জানবেন। মেলার মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের ব্যবসায়িক হাব হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
মেলার উদ্বোধন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি আরও গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। তিনি বাংলাদেশের উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রশংসিত। মেলায় তার উপস্থিতি অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ বৃদ্ধি করবে।
এই মেলা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একটি বড় উদাহরণ। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা এখানে অংশগ্রহণ করে নতুন চুক্তি, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা গড়ে তুলবেন। বাণিজ্য সচিব বলেন, “মেলা শুধু পণ্য প্রদর্শনের জন্য নয়, এটি একটি শিক্ষামূলক ও প্রেরণাদায়ক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি এবং নতুন কৌশল শিখতে পারবেন।”
বাণিজ্য মেলার আয়োজন বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মেলার মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজস্ব পণ্য ও সেবা উন্নয়নে মনোযোগ দিতে পারবে।