জঙ্গি নাটকের পুনরাবৃত্তি চাই না: হেফাজত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
জঙ্গি নাটকের পুনরাবৃত্তি চাই না: হেফাজত

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষনেতা আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান দেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, কেরানীগঞ্জের একটি ভুঁইফোড় মাদরাসায় বিস্ফোরণ, মুফতি জসিমউদ্দীনের বিরুদ্ধে বোমা হামলা, কয়েকটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে রহস্যজনক অগ্নিসংযোগ এবং সুনামগঞ্জ সীমান্তে ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার—এই সব ঘটনায় দেশের কিছু দেশবিরোধী চক্র ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার চেষ্টা করছে। হেফাজতের নেতাদের মতে, এই ধরনের কৌশল মূলত জনমনে ভীতি সঞ্চার করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ব্যাহত করা এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবির প্রতি জনগণের মনোযোগ ঘুরিয়ে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের অতীত ইতিহাসে এই ধরনের ‘জঙ্গি নাটক’ বহুবার দেখা গেছে। বিশেষ করে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশে অসংখ্য জঙ্গি নাটক পরিচালিত হয়েছে। হেফাজতের নেতারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রধানত সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী এজেন্ডা জড়িত থাকলেও দেশীয় কিছু রাজনৈতিক এজেন্টও নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই নেপথ্য নাটকগুলো পরিচালনা করে। তাদের লক্ষ্য হলো আগ্রাসনবিরোধী, প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, ইসলামপন্থি ও বাংলাদেশপন্থি শক্তিকে দমন করা। এই প্রেক্ষাপটে হেফাজতের নেতারা সতর্ক করেছেন যে, ফ্যাসিস্ট অপশক্তি যদি আবারও ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলতে আসে, তবে তা মোকাবিলা করা হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।

নেতাদের মতে, বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সরকারের বিশেষত ইউনূস সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে, তারা দেশের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, যদি জঙ্গি নাটকের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে, তাকে দ্রুত আইনগতভাবে প্রক্রিয়াধীন করতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে ফাঁসানো না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

হেফাজতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য জনগণকে ভীত ও আতঙ্কিত করার এই ধরনের স্যাবোটাজ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নেতারা জনগণকে প্রতিরোধমূলক মনোভাব অবলম্বন করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই না দেশের জনগণ পুনরায় জঙ্গি নাটকের শিকার হোক। এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা কখনোই দেখতে চাই না।”

বিবৃতিতে হেফাজতের নেতারা আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংহতি রক্ষা করতে এখন সময়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সতর্কতা এবং সংহত আচরণ। সাধারণ জনগণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া এই ধরনের নাটক প্রতিহত করা সম্ভব নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণ সচেতন হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

নেতাদের এই সতর্কবার্তায় একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, দেশপ্রেমিক ও ধর্মপ্রাণ নাগরিকরা সংহত থাকলে জঙ্গি নাটকের কৌশল কার্যকর হবে না। তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা প্রতিহত করা সকলের দায়িত্ব।

হেফাজতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের যেকোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, জনমনে আতঙ্ক সঞ্চার এবং আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের যে কোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সরকারের উচিত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি জনগণকেও তাদের দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হওয়া জরুরি, যাতে দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে।

এভাবে হেফাজতে ইসলাম দেশের জনগণকে সতর্ক করার পাশাপাশি সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করছে। নেতাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশের স্থিতিশীলতা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত