খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের শোক ও ১ দিনের ছুটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬১ বার
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার মৃত্যু বাংলাদেশ রাজনীতিতে একটি যুগের সমাপ্তি এবং জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোক বার্তায় বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে তার অবিচল ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন মহান দূরদর্শী ও নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

তিনি আরও বলেন, “শোকাবহ এই মুহূর্তে আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান, আসুন আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। একই সঙ্গে জাতির এই কঠিন সময়ে আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি। শোকের এই সময়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সেই বিষয়ে আমি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এ সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন এবং বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তার নামাজে জানাজার দিন হিসেবে এক দিনের সাধারণ ছুটি থাকবে। তিনি সকলকে শোক পালনের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, “আমি আশা করি শোকের এই সময়ে আপনারা ধৈর্যের পরিচয় দেবেন এবং জানাজাসহ সব আনুষ্ঠানিকতায় সহযোগিতা করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষমতা দান করুন।”

বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপরিচিত। রাজনীতিতে তার অবদান বিশেষভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চিরস্মরণীয়। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নেতৃত্বের সময় বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন ঘটে।

শোক প্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোক পালন ও জানাজা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনগণও দেশব্যাপী শোক পালন করছেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দও খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রীয় শোকের এই সময়ে সকলেই তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবে।

জাতীয় পর্যায়ে এই শোককেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাবেক নেত্রীর প্রতি সম্মান জানাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পাশাপাশি সব ধরনের সামাজিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে যাতে শোক অনুষ্ঠানের সময় কোনো বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি না ঘটে।

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করছেন এবং খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। শোকের এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন একত্রিত হয়ে তার অবদান ও নেতৃত্বকে স্মরণ করছে।

বেগম খালেদা জিয়ার জীবন রাজনৈতিক সাহস, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিবেদিত ছিল। তার মৃত্যু এক যুগের সমাপ্তি হলেও, তার কর্ম ও দর্শন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্থায়ী শিক্ষার ধারা হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত