মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের প্রতীক ছিলেন খালেদা জিয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বার
খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের অবদান

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় পরিবারের নিরাপত্তা বিপন্ন করেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিপুল সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। পাকিস্তানি সেনাদের চোখের সামনে নিজের দুই সন্তানকে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করা, এসব কেবল তাঁর বীরত্বের প্রমাণ নয়, বরং জাতীয় ইতিহাসে একটি নেপথ্য কাহিনী হিসেবে বিদ্যমান।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে যখন মেজর জিয়া ৩০০ সৈন্য নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া নিরাপত্তার জন্য সন্তানের সঙ্গে পালিয়ে বের হয়েছেন। পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার পরও তিনি কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়াননি। পাকিস্তানি সেনারা যখন অস্ত্র সন্নিবেশের জন্য আসে, তখন খালেদা জিয়া তাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জিয়াউর রহমানের নির্দেশ ছাড়া কিছুই চলবে না। তাঁর কঠোর সিদ্ধান্ত এবং ত্যাগবোধের কারণে অন্তত ১,১০০ দেশপ্রেমিক সেনাকে বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জে লঞ্চে চড়ে তিনি বোন খুরশিদ জাহান হক ও তাঁর স্বামী মোজাম্মেল হকের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছান। পাকিস্তানি সেনারা খালেদা জিয়ার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি চুপচাপ ও স্থির থেকেছেন। গ্রেফতার হওয়ার পরও তার দৃঢ়তা অটুট ছিল। ধানমন্ডির একটি চাচার বাসা থেকে সিদ্ধেশরীর বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সাহস ও ধৈর্য তাঁকে দেশের ইতিহাসে এক অনন্য স্থানে বসিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পদক প্রদান, মাসিক ভাতা বৃদ্ধি এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বীরশ্রেষ্ঠদের মর্যাদা সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের কল্যাণেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

খালেদা জিয়ার এই অবদান কেবল তার ব্যক্তিগত সাহসের প্রতীক নয়, বরং বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতার পরিচায়ক। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া, এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, স্বাধীনতার প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিল।

তাঁর নেতৃত্ব ও সাহসের গল্প শুধু ইতিহাস নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের পরিবার, সন্তান এবং নিজের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে দেশের জন্য যিনি লড়েছেন, সেই বীরত্বের পরিচয় ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বাংলাদেশের জাতীয় স্বনাম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে চিরস্থায়ী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত