প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছেন, এত শ্রদ্ধা, সম্মান ও মানুষের ভালোবাসায় একজন নেত্রীর চলে যাওয়া ইতিহাসে এক বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে থাকবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এত শ্রদ্ধা, এত সম্মান, এত মানুষের ভালোবাসা নিয়ে এরকম একজন নেত্রীর চলে যাওয়াটা একটা বিশেষ মুহূর্ত। আমরা প্রতিটি মানুষ এই শোকে একত্রিত হয়েছি।”
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার বাইরে সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন ড. আসিফ নজরুল। তিনি আরও বলেন, দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভোর ৬টায় শাহদাতবরণ করেছেন। এই শোকের মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গভীরভাবে শোকাহত।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শুরুতেই বেগম জিয়ার মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা মোনাজাত পরিচালনা করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রীয় শোকের প্রস্তাব পাশ হয় এবং আগামীকাল থেকে তিন দিনের শোক পালন ও এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও শোক বই খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল জানান, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে আগামীকাল বাদ জোহর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে। প্রধান উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনের জন্য তার জানাজা ও দাফন অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হবে। দেশের নাগরিকরা এবং রাজনৈতিক নেতারা এই শোকপূর্ণ সময়ে একত্রিত হয়েছেন, যা জাতীয় ঐক্য ও সংহতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিনের জীবনে অনেক নেত্রীর সাক্ষী হয়েছি, কিন্তু এমন মর্যাদা, দৃঢ় সংকল্প ও জনগণের প্রতি নিবেদিতপ্রাণতা যেভাবে বেগম জিয়ার মধ্যে দেখা গেছে, তা বিরল। দেশের জন্য তার অবদান চিরস্মরণীয়।”
বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার সংগ্রাম থেকে শুরু করে পরবর্তীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেগম জিয়ার ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। রাষ্ট্রীয় শোকের এই তিন দিন জাতি তার স্মৃতিকে সম্মান জানাবে এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার অবদানের কথা স্মরণ করবে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই শোকের সময়ে সবাই যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং জানাজাসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করেন। তিনি সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান, শোকের এই মুহূর্তে দেশে অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার কোনো চেষ্টা যেন না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার জীবন কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাহরণ নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার প্রতিটি পদক্ষেপে দেশের মানুষের কল্যাণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি অটুট রাখা ছিল মূল লক্ষ্য। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগের সমাপ্তি ঘটেছে।
আজকের এই শোকাবহ মুহূর্তে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুধু একজন নেত্রীর প্রতি সম্মান নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ।