রামপুরায় অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯০ বার
রামপুরায় অটোরিকশা দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অটোরিকশার ধাক্কায় এক অজ্ঞাতনামা বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার বয়স প্রায় ৭০ বছর। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে রামপুরা ডিআইটি রোডে, বেটার লাইফ হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী এলাকায়। প্রাথমিকভাবে আহত ব্যক্তিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক মো. সফিকুল ইসলাম খান জানান, সকালে স্থানীয় সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা চালিত যান ওই ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয়। পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে বেটার লাইফ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর পুলিশ খবর পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশাটি শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রামপুরা ডিআইটি রোডে দিনদিন যানবাহনের চাপ বাড়ছে এবং অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করছে। এ কারণে পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

সিএনজি অটোরিকশা চালিত যানগুলোর দ্রুতগামী ও নিয়ন্ত্রণহীন গতির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন অনিয়মিত দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে পথচারীদের জন্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। রামপুরা এলাকা যেমন ঘনবসতি এবং সড়কের অবস্থাও ততটা সুরক্ষিত নয়, সেখানেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রাইভেট সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এই ঘটনায় পথচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা শোক প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আরও কঠোরভাবে তৎপর হতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা।

এদিকে, পুলিশ স্থানীয়রা এবং হাসপাতালের সহযোগিতায় দুর্ঘটনার পর সিএনজি অটোরিকশাটির খোঁজ শুরু করেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কাউকে শনাক্ত করতে পারলে মৃত্যুর কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়তা করা যাবে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষে দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

রামপুরা ও আশপাশের এলাকার মানুষ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য স্থানীয়রা প্রার্থনা ও সমবেদনা জানিয়েছেন। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত মেডিকেল সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত উদ্ধার ও সঠিক চিকিৎসা প্রদানের গুরুত্বও পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।

রাজধানীতে প্রতিদিন যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অজ্ঞাতনামা পথচারীর এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিতভাবে রাস্তার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই ঘটনায় রাজধানীর রামপুরা এলাকা পুনরায় সড়ক নিরাপত্তা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণ একযোগে কাজ করছে। নিরাপদ সড়ক এবং অটোরিকশাসহ দ্রুতগামী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত