জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জকসুতে শান্তা আক্তারের জয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্য দিয়ে ভোটগণনা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান ফলাফল ঘোষণা করেন, যেখানে মোট ২১টি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে ১৬টিতে জয় অর্জন করেছে শিবির সমর্থিত প্যানেল। নির্বাচনে বিশেষ নজর কাড়েছে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে খ্যাত ইনকিলাব মঞ্চের শান্তা আক্তারের বিজয়, যিনি সদস্য পদে ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়ে জিতেছেন।

এই নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম। জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে আব্দুল আলিম আরিফ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) পদে মাসুদ রানা বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, ৩৮টি কেন্দ্রের ভোটের বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা সকল শীর্ষ পদে এগিয়ে রয়েছেন।

ভিপি পদে শিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলেও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল সমর্থিত ও ছাত্রঅধিকারের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি একেএম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন দুই হাজার ২০৩ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা ৫ হাজার ২০ ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছেন, তানজিল পেয়েছেন তিন হাজার ৯৪৪ ভোট।

নির্বাচনের আগ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। প্রার্থীরা পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, নানান কর্মসূচি আয়োজন ও প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ভোটদানের দিনেও কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করলেও কিছু কিছু কেন্দ্রে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গিয়েছে।

শান্তা আক্তারের বিজয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে নিজের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় শান্তা আক্তারের নেতৃত্বে সমর্থকরা বিভিন্ন ছাত্র মঞ্চে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দিয়েছেন এবং ভোটারদের মধ্যে ভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। শিবিরের প্যানেলও একইভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।

ভোটগ্রহণ ও ফলাফলের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সমাজের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। একাংশ শিক্ষার্থী বলেন, “নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় খুশি। নতুন নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে বলে আশা করা যায়।” অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী ভোটের ফলাফলে রাজনৈতিক দলের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসু নির্বাচন দেশের অন্যতম সাড়া জাগানো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক ছাত্র শিবিরগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে। এতে ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশে বিভিন্ন নতুন নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জানান, “ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের সব ধাপ নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং ফলাফল নির্ভুলভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এটাই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।

এবারের নির্বাচনে বিজয়ীরা দায়িত্ব নেওয়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, শিক্ষাগত উন্নয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশের মানোন্নয়নে এই নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফলের পর শিক্ষার্থীরা একাংশে আনন্দ উদযাপন করেছেন। নতুন নেতৃত্বের প্রতি তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ও সামাজিক উন্নয়ন হবে ত্বরান্বিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত