সর্বশেষ :
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত ৫০ দোকান, পথে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে যেন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত এক উত্তাল মশালমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা খুনিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। হাদি হত্যার ঘটনাটিকে কেবল একটি সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে না তারা, বরং এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, আধিপত্যবাদ এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ছাপ খুঁজে পাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। মশাল হাতে নিয়ে রাজপথ কাঁপানো এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের চোখে-মুখে ছিল তীব্র ক্ষোভ এবং বিচারের অপেক্ষায় থাকা মানুষের হাহাকার। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারের প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় জনমনে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই যেন ছিল এই মশালমিছিল।

সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সরকারের প্রতি তাদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের তার বক্তব্যে সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস পার হলেও হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সরকারের নীরবতাকে তিনি ‘আধিপত্যবাদের তোষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং জনগণের দাবির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের পর খুনিদের ফিরিয়ে আনার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তাকে তারা একটি অনিশ্চিত প্রক্রিয়া বলে মনে করছেন। জাবের স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, খুনিদের ফিরিয়ে আনার এই সময়সীমা কি অনন্তকাল, নাকি নির্দিষ্ট কোনো সময়কাল রয়েছে? এমন অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারছেন না তারা।

হাদি হত্যার সাথে ভারতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সমাবেশে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডাকসুর সাবেক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ তার সংহতি বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশে ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, বিগত সরকারের প্রভাবশালী মহল বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে। প্রতিটি বক্তব্যের সুরেই ছিল খুনিদের দেশীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করার জোরালো দাবি। হাদি হত্যার এই মামলাটি কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সাথে জড়িত বলে মনে করেন বক্তারা। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে হাদি হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা সরকারের জন্য এখন বড় পরীক্ষা।

মশালমিছিলের এই দৃশ্য কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানায় আটকে ছিল না, বরং এর বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশের মানুষের কাছে। অন্ধকারে হাতে মশাল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণদের এই মিছিল প্রতীকী অর্থে যেন অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর লড়াইয়েরই বহিঃপ্রকাশ। তাদের প্রতিটি স্লোগানে ছিল হাদি হত্যার বিচার ও ন্যায়বিচারের আকুতি। সাধারণ মানুষ যখন দেখছে দেশের ভেতরেই একজন নাগরিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তার বিচারের ক্ষেত্রে টালবাহানা চলছে, তখন ইনকিলাব মঞ্চের এই আন্দোলন একটি বড় মাপের সামাজিক চাপের সৃষ্টি করেছে। সরকার হয়তো এখন এই চাপকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু আন্দোলনকারীরা যে সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নন, তা তাদের শুক্রবারের পরবর্তী কর্মসূচির আহ্বানেই স্পষ্ট।

শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, হাদি হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়ছেন না। আন্দোলনের এই ধারাবাহিকতা কেবল হাদি হত্যার বিচারের দাবিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার একটি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের এই সাহসী অবস্থান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নতুন চেতনার জন্ম দিচ্ছে। তারা চায় দেশ থেকে বিচারহীনতার অভিশাপ মুছে যাক এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। হাদি হত্যার বিচার না হওয়া মানে ন্যায়বিচারের ধারণাকে খাটো করা।

পরিশেষে বলা যায়, হাদি হত্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের প্রধান দাবি। সরকার যদি অবিলম্বে খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে না পারে, তবে জনরোষ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যু। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ চায় না তাদের কোনো নাগরিকের হত্যার বিচার কূটনীতির মারপ্যাঁচে হারিয়ে যাক। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে ওসমান হাদির ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের এই মশালমিছিল সেই অধিকার আদায়ের এক দৃঢ় অঙ্গীকার। বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এখন অতিদ্রুত সুস্পষ্ট ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত