সর্বশেষ :
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত ৫০ দোকান, পথে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন

প্রকাশ: ৫ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের পুঁজিবাজারে যেন নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের ধীরগতি কাটিয়ে সূচকের ব্যাপক উত্থান এবং লেনদেনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফিরে এসেছে নতুন আশার আলো। বিদায়ী সপ্তাহটি ছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এক দারুণ ইতিবাচক পরিবর্তনের সাক্ষী। সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং বাজার মূলধনের বিশাল উল্লম্ফন কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধনে ১৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার সংযোজন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিরই বহিঃপ্রকাশ। পুঁজিবাজার এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন করে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। সপ্তাহের শুরু থেকেই বাজারে এক ধরনের চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে, যা শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত বজায় ছিল। সূচকের প্রতিটি ধাপের উত্থান প্রমাণ করেছে যে, বাজারে শেয়ারের চাহিদা বেড়েছে এবং বড় বড় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২১০ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। এছাড়া শরীয়াহ ভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ব্লু-চিপ বা ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সূচকের এই সামগ্রিক উত্থান বাজারের ভিত্তি মজবুত হওয়ার একটি অন্যতম লক্ষণ।

লেনদেনের অংকও এই সপ্তাহের উত্থানের বড় একটি নিয়ামক। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬২৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৬৪৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বেশি লেনদেন হওয়া মানে হলো বাজারে তারল্যপ্রবাহ বেড়েছে। প্রতিটি কার্যদিবসে গড় লেনদেন ৪৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়া পুঁজিবাজারের এই চাঙা অবস্থার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শেয়ারের দাম বাড়ার এই প্রতিযোগিতায় ৩৮৮টি কোম্পানির মধ্যে ৩২৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি ব্যাপকভিত্তিক উত্থানকে ইঙ্গিত করে। মাত্র ৪৯টি কোম্পানির দরপতন ও ১১টির দর অপরিবর্তিত থাকা বাজারের সামগ্রিক শক্তিরই পরিচায়ক।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার বা সিএসইতে একই ধরনের ইতিবাচক চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। সিএসই প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ২৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসআই সূচক ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সিএসই-৩০ ও সিএসই-৫০ সূচকের উল্লম্ফনও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ৪৬ কোটি থেকে বেড়ে ১৩২ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রমাণ। সিএসইতে প্রায় ৩১৭টি কোম্পানির লেনদেনের বিপরীতে ২৩৯টির দাম বাড়া এবং মাত্র ৫৭টির দর কমানো ইঙ্গিত দেয় যে, বাজার এখন অনেকটা সুষম অবস্থানে রয়েছে।

পুঁজিবাজারের এই উত্থানের পেছনে সরকারের ইতিবাচক নীতি এবং আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করার রাজনৈতিক অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নানা সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে যে, বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি কাটিয়ে আস্থা জন্মেছে। ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরা এখন ভয়হীনভাবে তাদের মূলধন নিয়ে বাজারে ফিরছেন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বিনিয়োগের এই ইতিবাচক পরিবেশ যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের নজর রাখা প্রয়োজন। পুঁজিবাজার কোনো জুয়ার জায়গা নয়, এটি একটি শিল্পোন্নয়নের মাধ্যম। যখন শেয়ারবাজারে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পায়, তখন কোম্পানিগুলো তাদের মূলধন সংগ্রহের নতুন উৎস খুঁজে পায়, যা দেশের সামগ্রিক শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা যেন কোনো ফটকা বিনিয়োগকারীর কারসাজিতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বিএসইসিকে। সুশাসন এবং শক্তিশালী বাজার তদারকি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।

পরিশেষে বলা যায়, সপ্তাহের এই উত্থান কেবল একটি সাময়িক আনন্দ নয়, বরং দেশের অর্থনীতির সূচকগুলোর একটি সুস্থ গতির প্রতিফলন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই যে আস্থা ফিরে এলো, তা ধরে রাখতে হবে মানসম্মত কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং স্বচ্ছ ডিভিডেন্ড পলিসির মাধ্যমে। আশা করা যায়, আগামী দিনগুলোতে দেশের পুঁজিবাজার আরও পরিপক্ক হবে এবং ছোট বড় সব ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য একটি নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করবে। দেশের অর্থনীতির এই ঘুরে দাঁড়ানোর যাত্রায় পুঁজিবাজারের ভূমিকা হবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত