হত্যা ও নৈরাজ্যের পেছনে কারা, প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার
হত্যা ও নৈরাজ্যের পেছনে কারা, প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার পটভূমিতে সরকার গোষ্ঠীভিত্তিক হত্যা ও নৈরাজ্যকে ‘প্রশ্রয়’ দিচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১২ জুলাই) বিকালে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমি আজ নয়, নয় মাস আগেই বলেছিলাম—এই দেশে একটি অদৃশ্য শত্রু কাজ করছে। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, সেই শত্রুরা এখন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। ষড়যন্ত্রের শেষ হয়নি। বরং এখন এটি চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। যে ভয়ংকর পরিকল্পনার সূচনা হয়েছিল, সেটি আজ আর শুধু গুজব নয়, বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “দেশে যখন একের পর এক মানুষ হত্যা হচ্ছে, নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে, তখন প্রশাসন নীরব। সরকার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই নৈরাজ্য যারা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? কেন তারা আজও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে?”

তারেক রহমান সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “যারা রাস্তায় মব তৈরি করছে, যারা নিরীহ মানুষকে টার্গেট করছে—তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে সেটি স্পষ্ট প্রমাণ দেয় যে সরকার নিজেই এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তারা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়।”

এই পরিস্থিতিতে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান সতর্ক ও সংগঠিত থাকার। তার ভাষায়, “গণতন্ত্র আজ বিপন্ন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। অথচ যাদের দায়িত্ব রক্ষা করার, তারাই নিরবতা পালন করছে। এটা কি কেবল ব্যর্থতা, নাকি সচেতন প্রশ্রয়—এই প্রশ্ন আজ পুরো জাতির সামনে।”

বিএনপি নেতার বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে এক গভীর অনাস্থা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, “দেশ আজ যে দিক দিয়ে এগোচ্ছে, সেটি কেবল রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ইতিহাস নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত নিপীড়নের দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জনগণের ওপর আস্থা না থাকলেই এমন ভয়ভীতি, আতঙ্ক আর নিঃশব্দ সন্ত্রাসের আশ্রয় নেওয়া হয়।”

তারেক রহমান এ সময় দাবি করেন, বিএনপি শুধু রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। “আমরা কোনো সহিংসতা চাই না, কিন্তু আমরা অন্যায় সহ্যও করবো না,”—এমন উচ্চারণে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, দল হিসেবে তারা আইন ও ন্যায়ের পথে থেকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমান কেবল সরকারের ভূমিকাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেননি, বরং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও এক গভীর অনিশ্চয়তার আভাস দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য দেশের বিদ্যমান উত্তেজনা আরও ঘনীভূত করতে পারে, বিশেষ করে যখন জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক সংশয় আরও গভীর হচ্ছে।

তারেক রহমানের এই বক্তব্যে দেশের রাজনীতি যে আরও সংঘাতপূর্ণ ও দ্বিধাবিভক্ত পথে অগ্রসর হতে পারে, সে আশঙ্কাও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে সচেতন সমাজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত