পিএসজিকে বিধ্বস্ত করে ক্লাব বিশ্বকাপের মুকুট চেলসির মাথায়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৮৬ বার
পিএসজিকে বিধ্বস্ত করে ক্লাব বিশ্বকাপের মুকুট চেলসির মাথায়

প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিশ্ব ফুটবলের শিরোপা লড়াইয়ে নতুন ইতিহাস লিখল চেলসি। ফাইনালের মঞ্চে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)-কে চূর্ণ করে প্রথমবারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ইংলিশ জায়ান্ট চেলসি। রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় লন্ডনের ক্লাবটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় চেলসি। প্রথমার্ধেই তিনটি চোখধাঁধানো গোল করে কার্যত নিশ্চিত করে নেয় ট্রফি। নায়ক কোল পালমার। দুর্দান্ত দুটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ জোয়াও পেদ্রোর গোলেও সরাসরি অবদান রাখেন তিনি।

ম্যাচের ২২তম মিনিটে গোলরক্ষকের দীর্ঘ পাস থেকে বল পেয়ে মালো গিস্তোর শটের রিবাউন্ড থেকে বল পেয়ে নিখুঁত নিচু শটে চেলসিকে এগিয়ে দেন কোল পালমার। আট মিনিট পর লিভাই কলউইলের দারুণ পাসে ডিফেন্স চিড়ে দ্বিতীয়বার বল জালে জড়ান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তার দুর্দান্ত ড্রিবল ও বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে হতবাক হয়ে যান পিএসজির গোলরক্ষক দোনারুম্মা।

৪৩তম মিনিটে পালমারের দেওয়া বল থেকে পিএসজির অফসাইড ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জোয়াও পেদ্রো, যিনি টুর্নামেন্টে এর মধ্যেই তিনটি গোল করে দলের অপরিহার্য ফরোয়ার্ডে পরিণত হয়েছেন।

পিএসজি অবশ্য ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করেছে। দেম্বেলে, ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসের শটগুলো প্রতিহত করেছেন চেলসির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রবার্ট সানচেস। তার পারফরম্যান্সই চেলসিকে একটি নিখুঁত ক্লিনশিট এনে দেয়।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন ৮৫তম মিনিটে পিএসজির মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস চেলসির মার্ক কুকুরেইয়ার চুল টেনে ধরলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় লাল কার্ড পান তিনি। এর ফলে পিএসজি ১০ জনের দলে পরিণত হয় এবং ম্যাচের গতি আরও একপেশে হয়ে পড়ে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সাইডলাইনে। চেলসির জোয়াও পেদ্রোকে উদ্দেশ্য করে ঘুষি ছুঁড়েন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে। বিষয়টি নিয়ে মাঠে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে।

তবে মাঠের সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সরিয়ে রেখে চ্যাম্পিয়নদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ফাইনাল জয়ে মৌসুমে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে ইউরোপিয়ান কনফারেন্স লিগে রেয়াল বেতিসকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল চেলসি।

চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক বিজয়ের ট্রফি হাতে তোলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে কোচ এন্টসো মারেস্কাসহ পুরো দল একসঙ্গে উদযাপন করে শিরোপার আনন্দ।

একটি সময় যেই চেলসিকে নিয়ে সংশয় ছিল, সেই চেলসি আজ বিশ্বের সেরা ক্লাব। নতুন কোচের অধীনে খেলোয়াড়দের নবজাগরণ এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব মিলিয়েই এই শিরোপা জয় তাদের আধিপত্যের জানান দিল ফুটবলবিশ্বে। ইউরোপিয়ান মহারথী পিএসজিকে এমনভাবে পেছনে ফেলে চেলসি প্রমাণ করে দিল—স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ থেকে ওঠা হুঙ্কার এখন আর অবহেলার নয়, সেটি এখন বিশ্বসেরা হওয়ার উচ্চারণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com