সুষ্ঠু পরিকল্পনায় সংকট উত্তরণ সম্ভব: জুবাইদা রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিদ্যমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের বাস্তবতায় সুষ্ঠু ও দূরদর্শী পরিকল্পনার মাধ্যমেই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, সমস্যা অনেক হলেও পরিকল্পিত রাষ্ট্রচিন্তা ও জনগণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার রাজনীতির মাধ্যমেই একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

বুধবার রাজধানীর হাতিরঝিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পেশাজীবীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাস্থলে বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি ছিল আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও নাগরিক প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার এক পরিসর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমাদের সবার জীবনে সমস্যা রয়েছে—ব্যক্তিগত, পেশাগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। কিন্তু হতাশার জায়গা নেই। কারণ সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকলে এবং সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে যদি জনগণ থাকে, তাহলে যেকোনো সমস্যারই সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে পরিকল্পনার রাজনীতি, যেখানে আবেগ নয় বরং বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি নতুন গৌরবময় সূর্যোদয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সময়টি শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন পরিবর্তনের সময়। জনগণের আকাঙ্ক্ষা, অধিকার ও মর্যাদাকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল কথা।

ডা. জুবাইদা রহমান তার বক্তব্যে বারবার নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, “আমরা বলি—আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা। সবার আগে বাংলাদেশ।” এই দর্শন শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং একটি রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন। তিনি বলেন, রাজনীতির উদ্দেশ্য যদি জনগণের সেবা না হয়, তাহলে সেই রাজনীতি অর্থহীন হয়ে পড়ে।

ভেদাভেদের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভাজনের আগে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজে কাউকে পেছনে ফেলে উন্নয়ন টেকসই হয় না। শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী শ্রেণি, তরুণ সমাজ—সবাইকে সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমের মর্যাদা দিতে হবে, মেধার মূল্যায়ন করতে হবে এবং নিয়োগ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই যেখানে শোষণের আগে অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যায়ের আগে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার নাগরিকরা নিরাপদ বোধ করে এবং রাষ্ট্রকে নিজের বলে মনে করে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গড়া যেখানে নেতার আগে জনতা থাকবে। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মালিক নয়, বরং সেবক—এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করাই বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি। ক্ষমতা নয়, দায়িত্বই হবে রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

“করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ”—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি উপস্থিত সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একক প্রচেষ্টায় নয়, বরং সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি সমতাভিত্তিক ও জ্ঞাননির্ভর রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত পেশাজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সময় বের করে এখানে এসেছেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। আপনাদের সমস্যাগুলো শোনা এবং বোঝার মধ্য দিয়েই কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হয়। তিনি আশ্বাস দেন, জনগণের সমস্যাগুলো শুধু শোনা নয়, বরং সেগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি বিএনপি দেয়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যুক্ত না হলে উন্নয়ন কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। সে কারণেই তিনি বলেন, আরও বেশি সংলাপ, আরও বেশি মতবিনিময় এবং আরও বেশি মানুষের কথা শোনার প্রয়োজন রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুবাইদা রহমানের এই বক্তব্য বিএনপির নির্বাচনি বার্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নৈতিকতা ও পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি জনগণকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রে রাখার রাজনৈতিক অঙ্গীকারও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পেশাজীবী সমাজের সঙ্গে এই ধরনের মতবিনিময় ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত, তখন এই বক্তব্যে উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও মানবিক রাষ্ট্রচিন্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দর্শনকে গ্রহণ করবেন, তা নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হবে। তবে জুবাইদা রহমানের বক্তব্য যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ ও মানবিক আলোচনার পরিসর তৈরি করেছে, সে বিষয়ে দ্বিমত নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত