সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাজিল ফুটবলের সোনালি ইতিহাসের আরেকজন নীরব নায়ক চলে গেলেন। ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের শক্তিশালী ডিফেন্ডার ব্রিতো মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা সিবিএফ বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটি মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ব্রিতোর পুরো নাম হারকুলেস দে ব্রিতো রুয়াস। তবে ফুটবল দুনিয়া তাকে চিনত শুধু ব্রিতো নামে। তিনি ছিলেন ব্রাজিলের সেই বিখ্যাত দলের সদস্য, যে দলকে এখনো অনেকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ও শক্তিশালী দলগুলোর একটি মনে করেন। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে পেলে, জায়েরজিনিয়ো, তোস্তাও, রিভেলিনো, কার্লোস আলবার্তোদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন ব্রাজিলের শিরোপাজয়ী অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ব্রাজিলের ফুটবল মানেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে আক্রমণ, নাচের ছন্দ, পায়ের কারুকাজ আর গোলের উৎসব। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের পেছনে রক্ষণভাগের দৃঢ়তাও ছিল সমান জরুরি। ব্রিতো ছিলেন সেই নিরাপত্তার বড় ভরসা। মাঠে তিনি খুব বেশি আলো কাড়তেন না। তবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে তার দৃঢ়তা, শারীরিক শক্তি এবং মনোযোগ ব্রাজিলকে বারবার বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে। এ কারণেই তাকে ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারদের একজন হিসেবে স্মরণ করা হয়।

১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ব্রিতো ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। এই সময়ে তিনি ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেশের জার্সি পরেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ১৯৬৬ বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের হয়ে খেলেন। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ১৯৭০ সালে। মেক্সিকোর মাটিতে সে বিশ্বকাপে ব্রাজিল শুধু চ্যাম্পিয়নই হয়নি, ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে তুলে নিয়েছিল। সেই শিল্পের পেছনে ব্রিতোর মতো খেলোয়াড়দের কঠোর রক্ষণ ছিল অদৃশ্য ভিত্তি।

১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দলটি ছিল বিস্ময়কর ভারসাম্যের উদাহরণ। আক্রমণে ছিল পেলের মেধা, জায়েরজিনিয়োর গতি, তোস্তাওয়ের বুদ্ধি আর রিভেলিনোর বাঁ পায়ের জাদু। মাঝমাঠে ছিল সৃজনশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ। আর রক্ষণে ব্রিতো ও উইলসন পিয়াজার মতো ফুটবলাররা দলকে স্থিরতা দিয়েছেন। এই জুটি প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তাদের দৃঢ়তার কারণেই ব্রাজিল আক্রমণে আরও স্বাধীনভাবে খেলতে পারত।

ব্রিতো এমন এক সময়ে খেলেছেন, যখন ডিফেন্ডারদের কাজ ছিল কঠিন এবং অনেক সময় কম আলোচিত। তখনকার ফুটবলে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শক্তি, সাহস, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং শারীরিক লড়াইয়ের ক্ষমতা আশা করা হতো। ব্রিতো এই সব গুণের সঙ্গে যোগ করেছিলেন শান্ত মাথা। তিনি অযথা ঝুঁকি নিতেন না। আবার প্রতিপক্ষকে সহজে জায়গাও দিতেন না। তাই কোচদের কাছে তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, আর সতীর্থদের কাছে ছিলেন আস্থার নাম।

ক্লাব ফুটবলেও ব্রিতোর পথচলা ছিল সমৃদ্ধ। তিনি ভাস্কো দা গামার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন। ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় মুখ। এছাড়া ফ্লামেঙ্গো, বোটাফোগো, করিন্থিয়ান্সসহ ব্রাজিলের আরও কয়েকটি পরিচিত ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমেছেন। তার ক্যারিয়ার শুধু জাতীয় দলের সাফল্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ঘরোয়া ফুটবলেও তিনি নিজের ছাপ রেখে গেছেন।

১৯৭০ বিশ্বকাপ ব্রাজিলের জন্য শুধু আরেকটি শিরোপা ছিল না। সেটি ছিল ফুটবলের ভাষায় এক মহাকাব্য। ফাইনালে ইতালিকে হারিয়ে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে। সেই জয়ের পর জুলে রিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে ব্রাজিলের ঘরে যায়। এই ইতিহাসের অংশ ছিলেন ব্রিতো। তাই তার মৃত্যুতে শুধু একজন সাবেক ফুটবলারকে হারাল ব্রাজিল নয়, হারাল একটি সোনালি সময়ের জীবন্ত স্মৃতি।

সিবিএফ সভাপতি সামির জাউদ ব্রিতোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ব্রিতোকে ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ব্রিতোর অবদান ব্রাজিলের ফুটবল স্মৃতিতে সবসময় থাকবে। এই শোকবার্তা শুধু আনুষ্ঠানিক নয়। ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগও এতে ধরা পড়ে। কারণ ১৯৭০ সালের সেই দল ব্রাজিলের জাতীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে।

ব্রিতোর মৃত্যু এমন সময়ে হলো, যখন বিশ্বকাপ ঘিরে আবারও ফুটবলপ্রেমীদের চোখ ব্রাজিলের দিকে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা মাঠে নামার আগে পুরোনো কিংবদন্তিদের স্মৃতি আবার সামনে আসে। পেলের প্রজন্মের সেই সোনালি দল আজ অনেকটাই ইতিহাসের পাতায়। একে একে হারিয়ে যাচ্ছেন সেই দলের সদস্যরা। তবে তাদের কীর্তি এখনো টিকে আছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে, পুরোনো ফুটেজে এবং ব্রাজিলের হলুদ জার্সির গৌরবে।

প্রজন্ম বদলায়, খেলার ধরন বদলায়, ফুটবলের গতি বদলায়। কিন্তু কিছু নাম সময়ের বাইরে থেকে যায়। ব্রিতো তেমনই এক নাম। তিনি হয়তো পেলের মতো বিশ্বজোড়া আলো পাননি। তার নাম হয়তো আক্রমণভাগের তারকাদের মতো ঘরে ঘরে উচ্চারিত হয়নি। কিন্তু যারা ফুটবল বোঝেন, তারা জানেন একটি মহান দল গড়তে শুধু গোলদাতা লাগে না। লাগে এমন রক্ষক, যারা শেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে থাকেন। ব্রিতো ছিলেন সেই রকম একজন।

তার ক্যারিয়ার তরুণ ফুটবলারদের জন্যও বড় শিক্ষা। আলো পাওয়ার জন্য সবসময় সামনে থাকতে হয় না। দলের জন্য নিজের কাজ নিখুঁতভাবে করাই সবচেয়ে বড় অবদান হতে পারে। ব্রিতো ঠিক সেটাই করেছেন। তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন স্থিরভাবে, চুপচাপ এবং সাহস নিয়ে। সেই দায়িত্বশীলতাই তাকে বিশ্বকাপজয়ী দলে জায়গা দিয়েছে এবং ইতিহাসে স্থায়ী করেছে।

ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীরা আজ তাকে স্মরণ করছেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, ১৯৭০ সালের সেই দল কখনো হারাবে না। কারণ সেই দলের ফুটবল শুধু ফল নয়, আবেগও তৈরি করেছিল। ব্রিতো সেই আবেগের অংশ। তার মৃত্যু তাই ব্রাজিলের ক্রীড়া ইতিহাসে এক শোকের দিন।

চলে গেলেন ব্রিতো। কিন্তু মেক্সিকোর সেই বিশ্বকাপ, হলুদ জার্সির সেই দল এবং রক্ষণভাগে তার দৃঢ় উপস্থিতি ফুটবল ইতিহাসে থেকে যাবে। ব্রাজিলের আক্রমণকে বিশ্ব মনে রাখে। তবে সেই আক্রমণের পেছনে যে রক্ষাকবচ ছিল, ব্রিতো ছিলেন তার অন্যতম শক্ত স্তম্ভ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত