বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি নেতা ইসহাক বহিষ্কার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ বার
বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের ফলে বিএনপির ভেতরে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, বিদ্রোহী প্রার্থী দমন এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বার্তা—সব মিলিয়ে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ ইসহাক সরকারকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড দলকে দুর্বল করে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সুবিধা দেয়। সে কারণেই সংগঠনের স্বার্থে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে দল।

মোহাম্মদ ইসহাক সরকার বিএনপির রাজনীতিতে নতুন কোনো মুখ নন। তিনি একসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তার পরিচিতি ছিল। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ঢাকা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা দলীয় সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে দেখা হয়েছে।

ঢাকা-৭ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হামিদুর রহমান। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন এনায়েত উল্লাহ, যাকে দলটির অন্যতম ধনী প্রার্থী হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ত্রিমুখী রূপ নিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসহাক সরকারের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো বিএনপির ভোটব্যাংকে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই দলটি দ্রুত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অতীতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পরই ইসহাক সরকারকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপরই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এদিকে ইসহাক সরকারের বহিষ্কার নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির একাংশ মনে করছে, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার সুযোগ ছিল। তবে দলীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত। বিএনপির ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন কঠিন হবে। সে কারণে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা তৃণমূল পর্যায়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়—দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার পরিণতি কঠোর হবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসহাক সরকারের বহিষ্কার শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি প্রতিচ্ছবি। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ, বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত বহিষ্কার—এই চক্রটি প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের আগেই দেখা যায়। তবে দলীয় শৃঙ্খলা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই ভবিষ্যতের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।

এই বহিষ্কারের ফলে ঢাকা-৭ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। বহিষ্কারের পর ইসহাক সরকার তার প্রার্থিতা বহাল রাখবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে তিনি নির্বাচনী মাঠে থাকলে ভোটের হিসাব-নিকাশে তার প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে মোহাম্মদ ইসহাক সরকারের বহিষ্কার বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি যেমন দলীয় শৃঙ্খলার কঠোর বার্তা দিচ্ছে, তেমনি নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপও বাড়িয়ে তুলেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই সিদ্ধান্ত কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত