স্থানীয় সুতায় তৈরি পোশাকে ৩.৫% বাড়তি সহায়তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
স্থানীয় সুতায় তৈরি পোশাকে ৩.৫% বাড়তি সহায়তা

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি প্রণোদনার সম্ভাবনা তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সুতা ব্যবহারে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। বর্তমানে নগদ সহায়তা ১.৫ শতাংশ, যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর ৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এই পদক্ষেপ স্থানীয় সুতার ব্যবহার বৃদ্ধি করবে এবং দেশের স্পিনিং মিলগুলোতে বিদ্যমান সংকট কিছুটা কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের প্রধান সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নগদ সহায়তার নতুন হার নির্ধারণের আগে একটি ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে, যা স্থানীয় এবং বৈশ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ দেবে। কমিটিতে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব ও তিনটি খাতের সংগঠনের প্রতিনিধি রয়েছেন।

একই দিনে অর্থ সচিবের সঙ্গে বিজিএমইএর নেতাদের পৃথক বৈঠকে বকেয়া নগদ সহায়তার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে পোশাক খাতে বকেয়া নগদ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকায়। নতুন নগদ সহায়তার প্রস্তাব ও বকেয়া অর্থ ছাড় একসঙ্গে প্রয়োগ হলে খাতের উৎপাদনশীলতা ও আর্থিক চাপ কমবে বলে মনে করছে সরকার ও শিল্পপতি উভয়েই।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এলডিসি মর্যাদা শেষ হওয়ার পর সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া কঠিন। বাকি মাত্র সাত মাসের জন্য সুবিধা প্রযোজ্য থাকায় তৈরি পোশাক রপ্তানি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্পিনিং মিলের সংকট দূর করার জন্য কমিটি একটি সঠিক সুপারিশ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি বন্ড সুবিধা (ডি-বন্ড) প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

বিটিএমএর পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, নতুন ৩.৫ শতাংশ নগদ সহায়তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বস্ত্র খাতের সংকট আপাতত কিছুটা কমবে। তবে কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে জাল সনদ ও মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অবৈধ সুতা আমদানি হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে এই প্রবণতা সম্প্রতি বেড়ে গেছে। এমন অবৈধ আমদানি বন্ধ না হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

পোশাক খাতের বড় সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর মধ্যে সম্প্রতি সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মিডিয়ায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রকাশের ঘটনায় বাণিজ্য সচিবের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, সুতা সংক্রান্ত আলোচনায় তিনটি পক্ষকে বাদ দিয়ে একতরফা আলোচনা করা হয়েছে। এ কারণে রপ্তানি ক্রমেই হ্রাস পেতে পারে। তিনি জানান, শিগগির বাণিজ্য সচিবের পদত্যাগ দাবি করবে বিজিএমইএ।

বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পোশাক খাত বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের এফটিএ প্রভাব, নির্বাচনী সাধারণ ছুটি, ঈদ ও অন্যান্য উৎপাদন বিরতি এবং ঈদ বোনাস পরিশোধসহ মোট সাতটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিজিএমইএ আশা করছে, নতুন নগদ সহায়তা ও স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার মাধ্যমে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, নগদ সহায়তার বিষয়টি শিল্পখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সুতার ব্যবহার বাড়াতে এবং বস্ত্রকলগুলোকে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

শিল্পপতিদের মতে, তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য নগদ সহায়তার পাশাপাশি অবৈধ আমদানি প্রতিরোধ, শুল্ক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কাস্টমসের কার্যকারিতা বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই প্রাথমিক সম্মতি এবং কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে যাবে, স্থানীয় সুতা ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত