দেশে ফিরেছেন ৩৭ হাজার হাজি, মৃত্যু ৪৮ জনের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ০৭ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরা অব্যাহত রয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৪৩৫ জন হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। তবে হজ মৌসুমে সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৮ জন বাংলাদেশি হাজি। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২২ জন।

রোববার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্প ডেস্ক প্রকাশিত দৈনিক হজ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। হজযাত্রীদের দেশে প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত এই তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে আসা ৩৭ হাজার ৪৩৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন শেষে ফিরেছেন ৩৪ হাজার ১০৭ জন। সংখ্যার দিক থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়া হাজিদের উপস্থিতিই বেশি ছিল, যা দেশের সাম্প্রতিক হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক প্রবণতার প্রতিফলন।

হাজিদের ফিরিয়ে আনতে তিনটি এয়ারলাইন্স নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪ হাজার ৬০ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ১৪ হাজার ২৪১ জন হাজি। এছাড়া ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৭ হাজার ৭০০ জন হজযাত্রী।

ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রেও তিনটি এয়ারলাইন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখন পর্যন্ত মোট ৮৯টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩৪টি ফ্লাইট। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩৫টি ফ্লাইট। ফ্লাইনাস পরিচালনা করেছে ২০টি ফ্লাইট। হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হাজিদের মৃত্যুর সংখ্যা ৪৮ জনে পৌঁছেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মৃত্যুবরণকারী হাজিদের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পবিত্র নগরী মক্কায় সবচেয়ে বেশি ৩৫ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। মদিনায় মারা গেছেন ১২ জন। এছাড়া জেদ্দায় একজন হাজির মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনের সময় মক্কায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম এবং শারীরিক পরিশ্রমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, এ বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাজি চিকিৎসা সহায়তা নিয়েছেন। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট ৩৯৮ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২২ জন হাজি। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশনের চিকিৎসক দল এবং সৌদি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

হজ মিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অধিকাংশ হাজির অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরেছেন এবং দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর জন্য কোটা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করার সুযোগ পান। দীর্ঘ প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে তারা ধাপে ধাপে সৌদি আরবে গমন করেন।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট পরিচালিত হয় গত ১৮ এপ্রিল। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ২১ মে শেষ হয় যাত্রী পাঠানোর কার্যক্রম। এরপর হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর গত ৩০ মে থেকে শুরু হয় দেশে ফেরার ফ্লাইট কার্যক্রম।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিরতি হজ ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট হাজিদেরও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। বিমানবন্দর, হজ অফিস, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো হাজিদের নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলোর একটি। প্রতি বছর লাখো মুসল্লির সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষ এই পবিত্র ইবাদত পালনে সৌদি আরব যান। হজ শেষে হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এখন দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্বজনদের সঙ্গে হাজিদের পুনর্মিলনের আবেগঘন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে মৃত্যুবরণকারী হাজিদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন তাদের পরিবার ও স্বজনরা। হজ পালন শেষে দেশে ফেরত আসা যাত্রীদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে এবং মাসের শেষ নাগাদ পুরো ফিরতি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত