প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের শক্তি, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার ওপর ভর করেই দেশ আবারও সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এগিয়ে যাবে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা ইনশাল্লাহ অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব।
রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী এবং দক্ষতানির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং প্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং জনগণের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন কিংবা নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের অবদান যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অসংখ্য সাহসী মানুষ দেশ ও জনগণের স্বার্থে আত্মত্যাগ করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। ইতিহাসের এই শিক্ষাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে পথ দেখাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি আধুনিক, টেকসই এবং প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে দক্ষতা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠবে। তাই শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারে।
কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে দক্ষ জনশক্তি একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশেও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং এ খাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দক্ষ শিক্ষকই দক্ষ শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে পারেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা কার্যক্রম এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির বিস্তার ঘটাতে হবে। দেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কারিগরি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে শিক্ষা খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।