প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বনাঞ্চল ধ্বংস করে শিল্প স্থাপনের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পরিবেশ ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবেশবান্ধব নীতির পরিবর্তে সরকারের বর্তমান অবস্থান উন্নয়নকেন্দ্রিক হলেও তা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষ বিতরণ ও সপ্তাহব্যাপী পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নীতিতে যে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। তার মতে, বনাঞ্চল রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পরিবর্তে কিছু উদ্যোগ পরিবেশের ক্ষতির কারণ হতে পারে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ সীমিত হলেও জনসচেতনতা তৈরি এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। পরিবেশ বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা না বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সরকারের পরিবেশ নীতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশ ইস্যু যথেষ্ট অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। তার মতে, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশকে সমান গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে তা দেশের জন্য গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পরিবেশ পরিস্থিতি কী হবে, তা বর্তমান নীতির ওপর নির্ভর করছে। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন পরিবেশ কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, ৬ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত ঢাকাজুড়ে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কার্যক্রম চলবে।
এই কর্মসূচির আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ বিতরণ ও রোপণ করা হবে। পাশাপাশি দখল, দূষণ এবং পরিবেশ ধ্বংস রোধে সচেতনতা বাড়াতে একটি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, নগরায়ণ ও শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য বজায় রাখা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বনাঞ্চল রক্ষা এবং সবুজায়ন বাড়ানো না গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে পরিবেশ ইস্যুতে রাজনৈতিক বক্তব্য ও নীতিগত বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।