বিটকয়েনের দাম ৭০ হাজার ডলারের নিচে নামার পথে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
বিটকয়েনের দাম ৭০ হাজার ডলারের নিচে নামার পথে

প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দরপতন অব্যাহত রয়েছে এবং বাজার বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, যে দাম খুব শীঘ্রই ৭০ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিটকয়েনের দর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর পর পুনরায় বৃদ্ধি পেলেও, চলতি সপ্তাহে এটির দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এশিয়ান বাজারে বিটকয়েনের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়ে ৭০ হাজার ৫২ ডলার ৩৮ সেন্টে নেমে আসে। এটি গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে বিটকয়েনের সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথারও এদিকে পতনের মুখে। এটির দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে ২ হাজার ৮৬ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, চলতি বছরের মধ্যে ইথারের দাম ২ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিটকয়েন ও ইথারের এই বড় দরপতনের পেছনে অন্যতম কারণ হলো মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের মনোনয়ন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ফেডের ব্যালেন্স শিট ছোট করতে পারেন। ক্রিপ্টো বাজারে ব্যালেন্স শিটের আকার সরাসরি প্রভাব ফেলে। যখন ফেড বড় পরিমাণে অর্থ সরবরাহ করে, তখন ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দামের বৃদ্ধি ঘটে, কিন্তু ছোট ব্যালেন্স শিট বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করে। জুলিয়াস বেয়ার-এর ‘নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ’ দলের বিশ্লেষক ম্যানুয়েল ভিলেগাস ফ্রান্সেশি বলেন, বাজার কেভিন ওয়ার্শের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আতঙ্কিত। তবে তার মতে, ছোট ব্যালেন্স শিট ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য চূড়ান্ত বাধা হবে না।

চলতি সপ্তাহে বিটকয়েন ৭ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষতির সমতুল্য। একই সময়ে ইথারের দর কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস করছে এবং ডিজিটাল সম্পদ বাজারে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে রেকর্ড পতনের পর থেকেই ক্রিপ্টো বাজার কয়েক মাস ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে। সেই সময়ে লিভারেজড পজিশনগুলো দ্রুত বিক্রি হওয়ায় বিটকয়েনের দাম শীর্ষ থেকে নিচে নেমেছিল। এই প্রভাব এখনও বাজারে বিরাজ করছে।

ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিটকয়েনের এই বড় দরপতনের আরেকটি মূল কারণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক বিটকয়েন ইটিএফ থেকে ব্যাপক অর্থ তোলার ঘটনা। ২০২৫ সালের অক্টোবরের পতনের পর থেকে প্রতি মাসে এসব তহবিল থেকে কোটি কোটি ডলার ক্রিপ্টো বাজার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে মার্কিন স্পট বিটকয়েন ইটিএফ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বের করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর ও নভেম্বরে যথাক্রমে প্রায় ২ বিলিয়ন এবং ৭ বিলিয়ন ডলার তোলা হয়েছে। এই ধারাবাহিক অর্থ উত্তোলন বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হ্রাস করছে এবং ক্রিপ্টো শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজারের সাম্প্রতিক এই ধাক্কা ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পতন শুধু দাম হ্রাসের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিনিয়োগকারীদের মনোবল এবং বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করছে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের মনে হতে পারে, ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিশ্চিত।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিটকয়েন এবং অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ওঠা-নামার প্রভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ফেডের নীতি, বিনিয়োগকারীর মনোভাব, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলের কার্যক্রম—all মিলিতভাবে বাজারের ওঠাপড়া নির্ধারণ করে। ফলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং ঝুঁকি বিবেচনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চূড়ান্তভাবে বলা যায়, বিটকয়েনের দাম আগামী দিনে আরও ৭০ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলা করা এবং সংযমী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তবে সঠিক বিশ্লেষণ এবং সচেতনতা থাকলে বাজারে সুযোগও থাকতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত