শফিকুর রহমানের প্রতিশ্রুতি: দুর্নীতিবাজদের ছাড় নয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯১ বার
শফিকুর রহমানের প্রতিশ্রুতি: দুর্নীতিবাজদের ছাড় নয়

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জনসভায় দলের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার গঠনের পর কোনো চাঁদাবাজি বা দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “চাঁদাবাজি আমরা করি না এবং কাউকেই করতে দেব না। দুর্নীতি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের কোনো জায়গা থাকবে না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না এবং কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আপসরফা হবে না। মামলাবাজি আমাদের স্বভাবের বিষয় নয়। যারা মামলা–বাণিজ্য করেছে, তাদেরও আইনশৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে।”

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক ন্যায্যতা ও মানুষের নিরাপত্তার ওপর জোর। তিনি বলেন, “সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই যাঁরা মুসলমান নন, তাঁরা ভয়ের পরিবেশে থাকবে না। আমরা সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এক সমান পরিবেশ নিশ্চিত করব। এই দেশ আমাদের সবার। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এগোব।”

নারী সুরক্ষা ও মর্যাদাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের আমির বলেন, “মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কোনো সদস্যের দিকে চোখ তুলে তাকানোর। যদি কেউ নারীকে হুমকি দেয় বা অপরাধমূলক আচরণ করে, জনগণ প্রতিক্রিয়া জানাবে।” তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই মাসের ঘটনায় যুবকরা মেয়েদের প্রতি আক্রমণের বিরুদ্ধে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, তা আবারও প্রযোজ্য হবে।

শফিকুর রহমান সরকারের আয়ের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্তি বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “শুধু বংশপরম্পরায় নেতা নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমী মানুষের সন্তানকেও নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে। গত ৫৪ বছরে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা দেশের সম্পদ লুট করেছে। ব্যাংক ও বীমা লুট করেছে। বড় প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি করেছে এবং বিদেশে টাকা পাচার করেছে। ক্ষমতায় এলে তাদের থেকে সব অবৈধ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।”

নওগাঁ জেলার কৃষি ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “নওগাঁ বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কৃষির রাজধানী। এখানে উৎপাদিত ধান ও অন্যান্য ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। শহরের প্রধান সড়ক চার লেন করা হবে। কৃষকদের জন্য সংরক্ষণাগার ও ফল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পও বিকশিত হবে।”

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুর রাকিব। এছাড়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান এবং নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। তারা দলের নীতি ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার বিষয় তুলে ধরেন এবং ভোটারদের সমর্থনের আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমানের ভাষণে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, তার নেতৃত্বে জামায়াত দেশে সামাজিক ন্যায়, নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্তি এবং কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করবে। তিনি বলেন, “মানুষকে সম্মান, নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে। ক্ষমতায় এলে দেশের সম্পদ সকলের জন্য ব্যবহারযোগ্য করা হবে।”

সাধারণ মানুষ এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে ইনসাফের প্রতীক হিসেবে ভোটাররা তার দলকে সমর্থন করবেন। তিনি বলছেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কর্মসূচি ও সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনই জামায়াতের লক্ষ্য।

শফিকুর রহমানের জনসভা সামাজিক ন্যায্যতা, দুর্নীতিমুক্তি, নারী সুরক্ষা এবং স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভোটারদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, জামায়াত প্রশাসন গঠনের পর একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং ন্যায্য সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত