সোনার দাম কমল, নতুন মূল্য আজ থেকে কার্যকর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২ বার
সোনার দাম কমল, নতুন মূল্য আজ থেকে কার্যকর

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভরিতে সোনার দাম কমে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেট সোনার নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমায় সোনার এই সমন্বয় করা হয়েছে। এতে করে দেশজুড়ে সোনার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের ক্রেতারা নতুন দামে সোনার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে।

নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম এখন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা, ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার মূল্য কমে ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন, ওজন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে। এটি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সোনার দাম কমার পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের হ্রাস এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার প্রভাব দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। এ কারণে বাজুস কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সমন্বয় করেছে।

সোনার বাজারে এই হ্রাসের প্রভাব সরাসরি গয়নার শিল্পে পড়বে। গহনা ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতাদের কাছে নতুন দামে সোনার বিক্রয় করতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি ক্রেতারা আগের তুলনায় কম খরচে সোনার ক্রয় করতে পারবে। বিশেষ করে বিয়ের মরশুম বা উৎসবকালীন সময়ে সোনার চাহিদা বেশি থাকে, তাই নতুন দামে সোনার বাজারে আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে।

সোনার দাম কমার ফলে বিনিয়োগকারীরাও এই বাজারে নতুন পরিকল্পনা নিতে পারেন। যাদের হাতে সোনা রয়েছে, তারা নতুন দামে ক্রয়-বিক্রয় করে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়াও বাজারে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পেলে গয়নার শিল্পের উৎপাদন ও বিক্রয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দেশের ক্রেতাদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার কারণে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম উচ্চমানের পর্যায়ে ছিল। নতুন মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে ক্রেতারা কম খরচে সোনার ক্রয় করতে পারবে এবং গহনা শিল্পে চাহিদার পুনরুজ্জীবন ঘটবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সোনার বাজারে এই হ্রাস সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে গহনার দোকানদার ও আমদানিকারকরা নতুন দামে ব্যবসা পরিচালনা করে বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।

সোনার নতুন দাম ঘোষণা করার মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও সোনার দাম পুনঃসমন্বয় করা হতে পারে।

সর্বশেষ, দেশের বাজারে সোনার দাম কমার ফলে ক্রেতারা আগের তুলনায় কম খরচে সোনা ক্রয় করতে পারবে, ব্যবসায়ীরা নতুন পরিকল্পনা নিয়ে উৎপাদন ও বিক্রয় বাড়াতে পারবেন এবং গহনার বাজারে স্বাভাবিক অবস্থার পুনরুদ্ধার হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত