চট্টগ্রাম বন্দরে রবিবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৬ বার
চট্টগ্রাম বন্দরে রবিবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট

প্রকাশ: ০৭  ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আবারও অচল হতে যাচ্ছে। বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীরা বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল, বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং চার দফা দাবির পক্ষে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এবং শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন এই তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তারা উল্লেখ করেন, মাত্র দুই দিন আগে শ্রমিকরা যে স্থগিত কর্মসূচি নিয়েছিলেন, তা পরিস্থিতি পরিবর্তনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চরম অচলাবস্থায় ফেরার শঙ্কা তৈরি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা জানান, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এছাড়া বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে অবিলম্বে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চালানোর দাবি জানানো হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যেমন বদলি, সাময়িক বরখাস্ত বা চার্জশিট প্রত্যাহার করতে হবে। তারা আরও জানিয়েছেন, আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের কোনো ধরনের মামলা বা আইনি হয়রানি করা যাবে না।

এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হয়েছিল। শ্রমিকরা রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিবেচনা করে দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন। তবে আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান আন্দোলনকারী ১৫ জন নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আর সম্পদ তদন্তের জন্য দুদককে চিঠি দেন। শ্রমিক নেতারা এটিকে ‘অনৈতিক’ এবং ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বন্দর চেয়ারম্যান পতিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে বন্দরকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। তাদের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বন্দরে কোনো কার্যক্রম চলবে না। নবনির্মাণ ও রপ্তানিপণ্যের প্রসেসিং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর অচল হয়ে যাবে। এতে আমদানীকৃত খাদ্যশস্য, শিল্প কারখানার কাঁচামাল এবং রপ্তানিজাত তৈরি পোশাকবাহী কনটেইনার খালাস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কয়েক দিনের টানা ধর্মঘট চললে জেটিতে জাহাজের জট এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এতে সরকারের প্রতিদিনের রাজস্ব ক্ষতি হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। শিপিং এজেন্ট এবং ব্যবসায়ীদেরও অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ দিতে হবে। রমজান মাসের মুখে নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এনসিটি ইজারা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং শ্রমিকদের ওপর থেকে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা না হবে, ততক্ষণ বন্দরে কোনো কাজ চলবে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান, এস কে খোদা তোতন, মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।

শ্রমিকদের এই পদক্ষেপ দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য এবং আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক সমাধান না হলে বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ফলে সরকারের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে যাবে। পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ নজরদারি ও দ্রুত সমাধানের দাবি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com