ঢাকা ১৪ ও ১৬ আসন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, সতর্ক সেনাবাহিনী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫ বার

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি আসনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে সেনাবাহিনী। ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৮ আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ১৮ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ আসনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মিরপুর ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর। এই ঘোষণা ঘিরে রাজধানীর নির্বাচনি পরিবেশ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার দুপুরে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। সে জন্য আগে থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর ঝুঁকির মাত্রা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফুয়াদ মাসরুর জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো সাধারণ, মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, এলাকার রাজনৈতিক বাস্তবতা, জনঘনত্ব, অতীতের সহিংসতার রেকর্ড এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৮ আসনের মধ্যে কিছু কেন্দ্র তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সেনাবাহিনীর মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে।

সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। কোথাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ যদি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বা গুজব রটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন যেকোনো বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা নাশকতার তথ্য প্রচারের আগে সাংবাদিকদের প্রাথমিকভাবে যাচাই করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশন করলে তা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফুয়াদ মাসরুর বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং এতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যাতে নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন তিনি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরে নির্বাচন পরিচালনা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জনসমাগম এবং নানা গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় রাজধানীর কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতায় আগেভাগেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি নির্বাচন সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ আসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে রাজনৈতিক দলের শক্ত অবস্থান, কর্মীসমর্থকদের সক্রিয়তা এবং অতীতের নির্বাচনি সহিংসতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে এসব আসনে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা-১৮ আসনকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেটি তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই তথ্য প্রকাশের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, সেনাবাহিনীর এমন সতর্ক অবস্থান ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং তারা নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ শব্দটি ব্যবহারে সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা ভয় তৈরি হতে পারে। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, এই সতর্কতা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের পাশাপাশি মোবাইল টিম এবং কুইক রেসপন্স ইউনিট প্রস্তুত রাখা হবে। সব মিলিয়ে রাজধানীতে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনীর এমন স্পষ্ট বক্তব্য একদিকে যেমন প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা জানায়, অন্যদিকে তেমনি গুজব ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দেয়। নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এই ধরনের আগাম ঘোষণা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সবশেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটারদের নিরাপত্তা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোতে বাড়তি সতর্কতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে দিকেই এখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ মনোযোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত