নির্বাচন ঘিরে মাঠে নামছেন ১,০৫১ ম্যাজিস্ট্রেট

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ বার

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে মাঠে নামছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে একযোগে সারাদেশে দায়িত্ব পালন শুরু করছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোটের আগে ও পরে সম্ভাব্য যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বজায় রাখতেই এই বিপুলসংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামানো হচ্ছে। তারা নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের পরিবেশ শান্ত রাখার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনের দিন ছাড়াও ভোটের আগের গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্বকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শনিবার গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা রাখা হচ্ছে না। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নির্বাচনের জন্য অনুকূল বলে মত দিয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

নির্বাচন কমিশন সূত্র আরও জানায়, ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যালট বাক্স ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। ব্যালট বাক্স সংরক্ষণ, পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী দ্রুত সহায়তা দিতে পারবে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় থাকবেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা, যাদের সংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন। এছাড়া সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মাঠে থাকবে। নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র‍্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং চৌকিদার ও দফাদার মিলিয়ে ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বড় পরিসরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কতারই প্রতিফলন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগ উঠে আসে। এসব পরিস্থিতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তা বাহিনীর এমন শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জানিয়েছেন, তারা ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং আইনবহির্ভূত যে কোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, অবৈধ মিছিল, অস্ত্র প্রদর্শন বা সহিংসতার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের এমন ব্যাপক প্রস্তুতি অনেকের মধ্যেই স্বস্তি ফিরিয়েছে। তারা আশা করছেন, শক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ভোটের দিন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ১ হাজার ৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের মাঠে নামা একটি বড় আকারের প্রশাসনিক উদ্যোগ। এই প্রস্তুতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও শান্তিপূর্ণ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত