সংসদ নির্বাচনে তিন দিন মোটরসাইকেল চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে মোটরসাইকেল চলাচল ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দিন—মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাকও চলাচলে নিষিদ্ধ থাকবে। এই বিধিনিষেধ ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর হবে। তবে নির্বাচনের নিরাপত্তা, জরুরি পরিষেবা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে।

দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহন, স্থানীয় পর্যায়ে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন এবং বিমানবন্দর যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও টিকিটের মতো প্রমাণ দেখালে বাধা নেই। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন না। জরুরি সেবা, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদপত্র বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের জন্যও চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত রাখা হয়েছে।

স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর করতে পারেন বা শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি ও প্রযোজ্য স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টরা একটি করে ছোট গাড়ি (জিপ, কার বা মাইক্রোবাস) ব্যবহার করতে পারবেন। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন পেলে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন।

এবারের বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য নির্বাচনী দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা। মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকায় নির্বাচন কেন্দ্রের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় যানবাহনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সড়কগুলোতে জরুরি যানবাহন চলাচলের সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর যানবাহন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকের যানবাহন, জরুরি পরিষেবা যানবাহন এবং টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার জন্য বিটিআরসি থেকে অনুমোদিত যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে না। এর ফলে নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় সংযোগ, তত্ত্বাবধান এবং তথ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দেবে না।

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই কঠোর বিধিনিষেধ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী অস্থিতিশীলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোট কেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিতি, ব্যালট পরিবহন এবং পর্যবেক্ষকরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

বাংলাদেশে এবার মোটরসাইকেল চলাচলে এই ধরনের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘ সময় ধরে আরোপ করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। নির্বাচনের আগে ও পরে এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত