ত্রয়োদশ নির্বাচনের নিরাপত্তায় আজ মাঠে নামছে সকল বাহিনী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫০ বার

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মাঠে নামছেন সেনাসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনের দিন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই দায়িত্বশীল প্রস্তুতি ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যদিও সেনাবাহিনী আগে থেকেই নির্বাচনি মাঠে উপস্থিত ছিল, তবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্বকাল সাতদিন ধরে বজায় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করবেন। একই সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবে। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার (In Aid to Civil Power) প্রক্রিয়ার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন হবেন।

সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কাছে সরাসরি প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশে মোতায়েন থাকবেন, সংখ্যায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন। সেনাবাহিনী ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র‌্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ এবং চৌকিদার ও দফাদার মিলিয়ে ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এই বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনের মাঠে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত থাকবে। সেনাসহ সব বাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে। এর ফলে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এছাড়া প্রশাসন বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ এবং প্রস্থান প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ থাকবে। ভোট কেন্দ্রগুলিতে পর্যবেক্ষক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, হিংসা বা ভয়ভীতি প্রতিরোধে সর্তক থাকবেন। প্রশাসন ইতিমধ্যেই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের মোতায়েন নির্বাচনী কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকি, ভোটের সময় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে। তাদের উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করবে। সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ পরিস্থিতিতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সহিংসতা প্রতিরোধে মাঠে সক্রিয় থাকবে। প্রশাসন আশা করছে, এই ব্যাপক নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে।

সংখ্যাগত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আনসার ও ভিডিপি বাহিনী সর্বাধিক সংখ্যায় নির্বাচন নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর ছোট অংশ নির্বাচনের চরম পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে। পুলিশ ও র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা এবং কেন্দ্রে নজরদারি নিশ্চিত করবে। চৌকিদার ও দফাদাররা স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তা প্রদান করবে, যা ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করবে।

নির্বাচনের দিন, ভোটারদের অংশগ্রহণে সহায়তা এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই বৃহৎ বাহিনী ব্যবস্থা অপরিহার্য। প্রশাসন বিশ্বাস করছে, সেনাসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, ভোট কেন্দ্রে সহিংসতা হ্রাস করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত