নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা: গভর্নর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা: গভর্নর

প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশীয় অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কর আদায় বাড়ানো ছাড়া নতুন সরকারি কর্মচারী পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকার পুনরায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করবে, যা মূল্যস্ফীতিকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

গভর্নর ব্যাখ্যা করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থাহীনতার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম। সরকার বাজেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাটছাঁট করলেও ব্যাংক খাত থেকে ঋণের হার বেড়ে গেছে। তিনি জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ডার সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আর্থিক খাতের সংস্কারের কথাও প্রার্থীরা রেখেছেন, যা বাস্তবায়ন হলে সektরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

ড. আহসান মনসুর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সব শর্ত পূরণ করেছে। ইতিমধ্যেই চার বছরে আইএমএফ যে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল তার তুলনায় বেশি পরিমাণ ডলার রিজার্ভে কেনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ গত এক বছরে ১৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসতে পারে। এভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু ব্যাংক তাদের অতিরিক্ত তারল্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে বেশি আগ্রহী, যার ফলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রদানের গতিশীলতা কমছে। এই সমস্যার সমাধানে নীতি সুদহার করিডোরের আওতায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তারল্য ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার জন্য নীতি সুদহার নিম্নসীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির হার ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১.৫০ শতাংশ এবং ওভার নাইট রেপো নীতি সুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

গভর্নর আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু আর্থিক খাতের ওপর চাপ বাড়াবে না, বরং মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়াতে পারে। কারণ কর আদায় না বাড়ালে সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করবে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি ব্যাংক ঋণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের গুরুত্বও উল্লেখ করেন।

এছাড়া, ড. আহসান মনসুর বলেন, দেশের মুদ্রানীতি এবং ব্যালান্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রিজার্ভে যথেষ্ট শক্তি রয়েছে। এক বছর ধরে বাজার থেকে মোট ৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে এবং কোনো ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়নি। এই কৌশল দেশের মুদ্রানীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে কর আদায় বাড়ানো এবং সরকারি খরচের নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করের সমান্তরাল না হলে মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে পারে। গভর্নরের সতর্কবার্তা এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংক্ষেপে, ড. আহসান মনসুরের বক্তব্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ দেশের আর্থিক খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরকারি খরচ ও কর আদায়ের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমূলক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত