কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বাতিল: উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বাতিল: উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব বাতিল করায় দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের স্বার্থে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ৩০ ভবনের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এই দাবি জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে।

সংগঠনের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, অক্টোবর মাসের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো প্রক্রিয়া বা প্রয়োজনীয় আলোচনা ছাড়া তা বাতিল করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান উপদেষ্টা যখন গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু এখনকার অবস্থান তাদের দ্বিমুখী নীতি প্রদর্শন করছে। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার পদত্যাগ দাবি করছেন।

মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, পদত্যাগ যদি একদিনের জন্য হয়, তাও আমরা চাই। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত না করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সরকার যে দলই গঠন করুক, তারা দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন কার্যকর করবেন। এরপর সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন অপরিসীম। গত ৯ অক্টোবর এই উদ্দেশ্যে সংশোধন প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ প্রণীত হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, একটি স্বাধীন ও সক্ষম কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থিক খাতের সংস্কারের জন্য অপরিহার্য। প্রস্তাব বাতিল হওয়ার ফলে বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, স্বায়ত্তশাসনের অভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর ও জটিল হয়ে যাচ্ছে, যা ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।

অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নেতারা আরও উল্লেখ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও স্বায়ত্তশাসনকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তারা দাবি করেছেন, নির্বাচন শেষে নতুন সরকার কর্তৃক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন দ্রুতভাবে কার্যকর করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে।

সভায় বক্তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সুসংগঠিত অবস্থান নিয়ে সরকারি নীতি ও প্রস্তাবের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন চালাবেন। তারা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে আর্থিক খাতের সংস্কার ও স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা মানে শুধুমাত্র একটি আইনি কাঠামোর প্রণয়ন নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ। তারা মনে করেন, এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের আর্থিক কাঠামো আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে, যা সমগ্র অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রতিবাদ সভা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যে, স্বায়ত্তশাসন, কার্যকর নীতি ও দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়। অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত