প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রমজানের প্রথম দিনেই নড়াইলে মাছের বাজারে চড়া দামের প্রভাব অনুভূত হয়েছে। পাইকারি বাজারে ইলিশসহ সামুদ্রিক ও দেশীয় মাছের সরবরাহ যথেষ্ট থাকলেও গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। নড়াইলের লোহাগড়ার মধুমতী পাইকারি মাছ বাজারে ইলিশ, পাঙাশ, রুই, কই, শিং, শোল, তেলাপিয়া ও চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে ইলিশের চাহিদা রমজানের শুরুতেই বেড়ে গেছে।
বাজারে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইলিশের ৯০০ গ্রাম দামের পরিসীমা ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ টাকা, আর আধা কেজি ইলিশের দাম ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ টাকার মধ্যে থাকছে। অন্যদিকে দেশীয় মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। পাঙাশ দুই কেজির জন্য ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, রুই দুই কেজির জন্য ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, কই ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা এবং শিং ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শোলের দাম ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি ৮৪০ থেকে ৯০০ টাকা। ছোট চিংড়ির কেজি প্রতি দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে।
আড়তে আসা বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহে মাছের দাম ভালো ছিল, তাই রমজানের প্রথম দিনে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও পাইকারি বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত, তবু ক্রেতাদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। ফলে অনেক বিক্রেতা দাম একটু বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মাছ বেশি থাকলেও দাম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হওয়ায় ক্রয়কর্মে অনিশ্চয়তা আছে।
মধুমতী মৎস্য মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় আজ দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে চলতি রমজানজুড়ে মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকবে।’ তিনি আরও জানান, নড়াইলের মধুমতী পাইকারি মাছ বাজার জেলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আড়ত। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এখানে গড়ে ১০ লাখ টাকার বেশি মাছ কেনাবেচা হয়।
বাজারে ইলিশসহ সব ধরনের সামুদ্রিক ও দেশীয় মাছের চাহিদা রমজান শুরুতেই বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় ক্রেতারা ইলিশ, পাঙাশ, রুই, চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ কিনতে বেশি আগ্রহী থাকেন। পাইকাররা জানাচ্ছেন, রমজান মাসে মাছের চাহিদা প্রতিদিন বেড়ে যায়। বিশেষ করে ইলিশের বাজার অন্য মাছের তুলনায় চড়া থাকে। এই সময় মাছের সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে দামও কিছুটা বেড়ে যায়।
বিক্রেতাদের মতে, রমজান মাসে দাম বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো চাহিদার বৃদ্ধি। যদিও পাইকারি বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত, তবু ক্রেতাদের চাপ এবং রমজান কেনাকাটার সময় বৃদ্ধি পাওয়া বিক্রেতাদের দাম বাড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়। এছাড়া ক্রেতারা আগেভাগে বাজারে আসেন না, ফলে সকালে মাছের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বেশি হয় বিকেলের দিকে।
মৎস্য বাজারের পরিবেশ এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক নিয়েও মনোযোগী হতে হয়। ক্রেতারা চাইছেন, রমজানে মাছের দাম সামঞ্জস্যপূর্ণ ও মানসম্মত হোক। বিক্রেতারা জানান, তারা ক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করছেন। বাজারে মাছের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিক্রেতারা সচেষ্ট।
মধুমতী পাইকারি বাজারে মাছের সরবরাহ যেমন আছে, তেমনি বাজারে নিয়মিত ভোরের দিকে ক্রেতা-বিক্রেতা উপস্থিত থাকেন। এখানে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। এই বাজার জেলার মানুষের দৈনন্দিন খাবার চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে রমজানের সময় মাছের সরবরাহ এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ কিনতে পারে।
নড়াইলে রমজানের প্রথম দিনে ইলিশসহ দেশীয় ও সামুদ্রিক মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে একটু উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ ও বিক্রেতাদের সচেতনতায় সামগ্রিকভাবে মাছের বাজার স্বাভাবিক থাকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজানের পুরো মাসে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকবে।
নড়াইলের মধুমতী পাইকারি মাছ বাজারের এই তথ্য ও সরবরাহের অবস্থা সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে। বাজারে মাছ কেনাবেচার স্বাভাবিক রীতি বজায় রাখলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই সুবিধা পাবেন। বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রমজান মাসে মাছের চাহিদা ও দাম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সাধারণ ক্রেতারা মাছ কিনতে আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়বেন না।