রমজানের শুরুতেই রাজধানীর বাজারে মাছ-সবজির দাম চড়লো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার
চড়া মাছ-সবজির বাজার

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রমজানের প্রথম শুক্রবারে রাজধানীর বাজারে তেল-মশলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে সঙ্গে মাছ ও সবজির দামও বেড়েছে। বিশেষত সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে, যেখানে বেগুন, শসা, লেবু এবং কাঁচা মরিচের দাম ক্রমেই বাড়ছে। একদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৬০ থেকে ১২০ টাকায়, শসা ৬০ থেকে ১০০ টাকায়, এবং লেবুর হালি ৪০ থেকে ১০০ টাকায়।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা বলেন, রমজান শুরু হওয়ায় বাজারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। সেলিনা আক্তার জানান, বাজারে সবজি থাকলেও দাম অনেক বেশি, যা সাধারণ পরিবারের জন্য বিপত্তি সৃষ্টি করছে। আরেক ক্রেতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘একদিনে মরিচের দাম এতটা বেড়ে যাবে ভাবিনি। লেবু আর বেগুনও ঊর্ধ্বমুখী। ইফতার ও সেহরির জন্য কেনা পণ্যের দাম ক্রমশ বাড়ছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

মাছের বাজারও একইভাবে চড়া। স্থানীয় বাজারে সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। রুই মাছের দাম প্রতিকেজি ৫০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং মাঝারি টেংরা ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা হাসান আলী জানান, সরবরাহ মোটামুটি ঠিক থাকলেও পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা হয়ত একটু অস্বস্তি বোধ করছেন, তবে সরবরাহ ঠিক থাকায় বাজার স্থিতিশীল আছে।’

তবে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি দাম ১৯০ টাকায় নেমেছে, যা ১০ টাকা কম। লেয়ার মুরগির দাম কমে ২৮০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় ২০ টাকা কম। সোনালি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে; প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। মুরগি বিক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দাম সামান্য কমেছে। তবে চাহিদা বেশি; তাই এখন বেশি কমার সুযোগ নেই।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রমজানের শুরুতে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ওঠানামা করছে। বাজারে সরবরাহ ঠিক থাকলেও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ভোক্তারা যাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ দামে পণ্য ক্রয় করতে পারেন, তার জন্য বাজার পর্যবেক্ষণ এবং পাইকারি সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

রমজান মাসে পরিবারগুলোকে ইফতার ও সেহরির জন্য বাজার করতে হয়, তাই এসব বাড়তি খরচ তাদের জন্য এক নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলো এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাজারে দাম বাড়লেও ক্রেতাদের সচেতন থাকার আহ্বান করা হয়েছে যাতে তারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দাম না দিয়ে পণ্য কিনেন।

শিল্পী ও ভোক্তা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বাজারের এমন ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। সবজির সরবরাহ ঠিক থাকলেও পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যস্থতা ও অতিরিক্ত কমিশনের কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে। একইভাবে মাছ ও মুরগির বাজারও ঋতুর প্রভাব, চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলেন, এই ঋতুতে কিছুদিনের মধ্যে দাম সামঞ্জস্যে ফিরে আসতে পারে, তবে রমজানের শুরুতেই এই চড়া দাম ভোক্তাদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন ও বাজার ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করে চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করবে, যাতে ভোক্তারা অযথা অতিরিক্ত খরচ না করেন।

এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের সাবধান থাকতে হবে এবং বাজারে জোর করে কেনাকাটা না করতে হবে। একইসঙ্গে সরবরাহকারীরা যেন দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি। মাছ, মুরগি ও সবজির বাজারে সামঞ্জস্য বজায় রাখলে সাধারণ ক্রেতার অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত