প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিনই ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রবাসী রেমিট্যান্সের সঙ্গে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে দেশের লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ের চাহিদাও দিন দিন বেড়ে চলেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের প্রবাহমান বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নজর রাখা ব্যবসা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, দেশের বাজারে বিভিন্ন প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় এবং বিক্রয়মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেনে সুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠা-নামার সঙ্গে দেশের মুদ্রা বিনিময় হার সম্পর্কিত থাকে, যা দেশের রেমিট্যান্স ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
আজকের লেনদেন অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য হয়েছে ১২১.৭০ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১২২.৭০ টাকা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোর ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪১.৯৬ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১৪৬.৮২ টাকা। একইভাবে, ব্রিটেন পাউন্ড ক্রয় ১৬৩.০৫ টাকা এবং বিক্রয় ১৬৮.১৭ টাকা। জাপানি ইয়েনের ক্রয়মূল্য ০.৭৭ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ০.৭৯ টাকা।
সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয়মূল্য আজ ৯৫.৯২ টাকা এবং বিক্রয় ৯৭.৫৩ টাকা, আর আমিরাতি দিরহামের ক্রয় ৩৩.১৩ টাকা এবং বিক্রয় ৩৩.৪২ টাকা। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৬.০৪ টাকা এবং বিক্রয় ৮৮.০৩ টাকা। সুইস ফ্রাঁয়ের ক্রয় ১৫৬.১৩ টাকা এবং বিক্রয় ১৬০.৩৫ টাকা। সৌদি রিয়েল ক্রয় ৩২.৪৩ টাকা, বিক্রয় ৩২.৭৩ টাকা। চাইনিজ ইউয়ান ক্রয় ১৭.৬৯ টাকা, বিক্রয় ১৮.০৫ টাকা এবং ভারতীয় রুপি ক্রয় ১.৩৩ টাকা, বিক্রয় ১.৩৬ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র এই হার অনুযায়ী লেনদেন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার এই হারের ওঠা-নামা শুধু ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের জন্য নয়, দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং আমদানি খরচেও প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস সরাসরি দেশের আমদানি ও রপ্তানি খাতকে প্রভাবিত করে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে এই বিনিময় হারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। উচ্চ বা নিম্ন হার লেনদেনের সময়ে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মধ্যপ্রান্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য যাদের রেমিট্যান্সে নির্ভরশীলতা বেশি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সরাসরি তাদের আয়-ব্যয়কে প্রভাবিত করে।
অর্থনীতিবিদরা আরও বলছেন, বিদেশি মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকারের নিয়মিত নজরদারি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের লেনদেন পরিকল্পনায় মুদ্রার ওঠা-নামার বিষয়টি যুক্ত করতে পারে যাতে আর্থিক ক্ষতি কমানো যায়।
আজকের লেনদেনের হার অনুযায়ী যে দেশগুলোর মুদ্রা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও প্রবাসী রেমিট্যান্সের চাহিদা সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের তথ্য প্রকাশ নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ী ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখে এবং লেনদেনকে সহজতর করে।
মুদ্রা বিনিময় হার শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও সূচক হিসেবে বিবেচিত। তাই প্রতিদিনের এই হার নিরীক্ষণ করা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার হারের ওঠা-নামা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবই নয়, দেশে অর্থনীতির চলমান অবস্থা এবং নীতি নির্ধারণের ওপরও প্রভাব ফেলে।
এভাবে আজকের হারের তথ্য ব্যবসায়িক লেনদেন, রেমিট্যান্স এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ীরা এই হারের মাধ্যমে তাদের মূল্য নির্ধারণ, আমদানি-রপ্তানি এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা করে থাকেন। প্রবাসীরা লেনদেনের সময় সর্বাধিক সুবিধা নিতে এই হারের সঙ্গে নিজেকে সামঞ্জস্য করেন।