প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বিশ্ব শেয়ারবাজারে পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ পাচ্ছেন না, যার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।
সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দামের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টোকিওর স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৬.৪৮ ডলার স্থির হয়েছে। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলের ভঙ্গ এবং geopolitical ঝুঁকির কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রতিফলন।
এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় দুই শতাংশ কমেছে, আর জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক দেড় শতাংশ পতন করেছে। বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন যে, এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যাবে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। এশিয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন, যার ফলে স্টক মার্কেটে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পরিস্থিতি অবনতি করেছে। স্টক ফিউচার, যা নিয়মিত বাজার সময়ের বাইরে লেনদেনের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়, তা উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, ওয়াল স্ট্রিটে সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের পতন ঘটতে পারে। ফিউচার ট্র্যাকিং বেঞ্চমার্ক বিক্রি দাম ৫০০ এবং টেক-হেভি নাসদাক কম্পোজিট প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সঞ্চয়হীন এবং সতর্ক হয়ে উঠছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন যে, তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং পরিবহন খাতে খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে। তেলবাজারের এই অস্থিরতা নতুন করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মার্কিন ও এশিয়ান বাজারে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি এভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি, যেসব দেশ তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের খরচ ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়বে।
এশিয়ান এবং পশ্চিমী বাজারে স্টক সূচক পতনের প্রভাব আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। বিনিয়োগকারীরা বাজারে স্থিতিশীলতার জন্য নতুন নীতি এবং সরকারি হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের অস্থিরতা ও রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে বাজারের ভোলাটিলিটি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীর ওপরও চাপ তৈরি করবে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে আগামীদিনে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক তেলবাজার কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।