প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা নতুন সমন্বয় অনুযায়ী ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আগের দামের তুলনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বাজুসের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান দরবৃদ্ধির কারণে দেশীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন হারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা, যা আগের দামের তুলনায় ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বেশি। সেই সময় ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির দাম ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা। নতুন সমন্বয়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের শুরু থেকে স্বর্ণের বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও আন্তর্জাতিক দরবৃদ্ধি সরাসরি দাম বৃদ্ধির দিকে প্রভাব ফেলেছে।
বাজুসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৩৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ বার দাম বৃদ্ধি এবং ১২ বার দাম কমানো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার দাম সমন্বয়ের ধারা কিছুটা বেশি ঘনঘন। ২০২৫ সালে দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রয়–বিক্রয় কার্যক্রম দেশীয় বাজারের সরাসরি প্রভাব ফেলে। পলিসি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বাজারের সরবরাহ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়তে বাধ্য। এছাড়া বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা, ডলার মানের ওঠানামা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চাহিদা স্বর্ণের বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।
দেশে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে স্বর্ণ কেনা-বোচারায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বিয়েবাড়ি, উৎসব বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে স্বর্ণ ক্রয় করার পরিকল্পনা থাকা মানুষদের জন্য এই দরবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবৃদ্ধি ভোরের দিকে কার্যকর হওয়ার কারণে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে এখনই আগ্রহী হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সচেষ্ট থাকার প্রয়োজন।
অন্যদিকে, জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক দর এবং দেশের বাজারে স্বর্ণের চাহিদা এই মুহূর্তে অত্যধিক। ফলে বাজারে সঠিক দর প্রয়োগ করে ক্রেতাদের সঙ্গে স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে হচ্ছে। বাজুস নিয়মিতভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করে এবং আন্তর্জাতিক হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় বাজারে দাম নির্ধারণ করে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় প্রতি সপ্তাহে নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের গতিবিধি ও স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। এতে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্য স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য বাজার তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের দাম বাড়ার এই প্রবণতা চলতি বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারও তার প্রভাব অনুভব করবে। সুতরাং ক্রেতাদের সতর্কভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা স্বর্ণ বিনিয়োগ বা সঞ্চয় হিসেবে রাখেন, তাদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সংক্ষেপে, দেশের বাজারে স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান দর নতুন সমন্বয় অনুযায়ী প্রতিফলিত হচ্ছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের দামও সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজুস নিয়মিতভাবে দেশের স্বর্ণবাজার পর্যবেক্ষণ করে চলেছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে।