প্রকাশ: ৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদের আনন্দকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শনিবার (৭ মার্চ) ঢাকা শহরের প্রধান শপিংমলগুলো সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। নতুন পোশাক কেনার পর ক্রেতাদের নজর এখন জুতার দিকে, আর সে কারণে ব্র্যান্ডেড দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
শহরের বিভিন্ন মল, যেমন বনানী, ধানমন্ডি, গুলশান ও মতিঝিল এলাকার বড় বড় শপিংমলগুলোতে ক্রেতারা ফ্যাশন এবং আরামের সঙ্গে মিল রেখে জুতা বাছাই করছেন। বিশেষ করে ছেলেদের মধ্যে পাঞ্জাবির সঙ্গে ম্যাচিং লোফার ও হাফ সু বেশ জনপ্রিয়। অন্যদিকে মেয়েরা পছন্দ করছেন হাইহিল বা আরামদায়ক ফ্ল্যাট স্যান্ডেল। ফ্যাশন, রঙ এবং কমফোর্ট—এই তিনটি দিকেই ক্রেতাদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে।
বিক্রেতাদের মতে, রমজানের শুরু থেকেই ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষ্যনীয়। বিভিন্ন দোকান ইতিমধ্যে ঈদের বিশেষ ছাড় ও অফার চালু করেছে, যাতে ক্রেতাদের বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা সহজ হয়। দোকান মালিকদের কথায়, “ক্রেতাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে সপ্তাহের ছুটির দিনে এবং বিকেলের সময় শপিংমলগুলোতে মানুষের সংখ্যা সর্বাধিক থাকে। চাঁদরাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলবে বলে আশা করছি।”
এক তরুণ ক্রেতা জানান, “আমি নতুন পাঞ্জাবি কিনেছি, এখন জুতা খুঁজছি যা সঙ্গে মানানসই হবে। এখানে অনেক বিকল্প আছে, তাই সহজে পছন্দের জুতা বেছে নিতে পারছি।” অন্য একজন মহিলা ক্রেতা বলেন, “আমি হাইহিল চাই, আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের। হাতে তৈরি বা ব্র্যান্ডেড—যা মানানসই, তাই কিনছি। ঈদে সাজসজ্জার অংশ হিসেবে জুতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
শপিংমলে ভিড় বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিরাপত্তারত স্টাফ ক্রেতাদের চলাচল নজরদারি করছেন। এছাড়া দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই সময়ে ক্রেতারা শুধু নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী জুতা বেছে নেন না, তারা পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবের জন্যও কেনাকাটা করছেন। ছোট থেকে বড় সকল বয়সের মানুষের মধ্যে এই উৎসবকালীন কেনাকাটার উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
এ প্রসঙ্গে এক ব্যবসায়ী বলেন, “ঈদের আগে ও পরে দু’মাসের মধ্যে বিক্রির অর্ধেক হয়। তাই এই সময় আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার এবং মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করি।”
শপিংমলগুলোতে ভিড় থাকা সত্ত্বেও ক্রেতাদের মধ্যে আনন্দের আবহ বিদ্যমান। বাজারে স্টক অনুযায়ী জুতা ও স্যান্ডেলের বিভিন্ন মডেল পাওয়া যাচ্ছে, যা ঈদে পরিপূর্ণ সাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে হাতে তৈরি বা স্থানীয় কারিগরদের তৈরি জুতা ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা বেশি।
সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা বা স্যান্ডেল কেনা ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই বাজারে প্রতিদিন নতুন ডিজাইন, রঙ এবং ব্র্যান্ডের পণ্য যোগ হচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের এই উৎসবমুখর দৃশ্য পুরো শহরে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। দোকানদার এবং ক্রেতা—দু’পক্ষই এই সময়কালকে উৎসবের মর্যাদা দিয়ে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জার জন্য ব্যবহার করছেন।