প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লিভারপুল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইস্তানবুলে গ্যালাতাসারাই–এর মাঠে ১–০ গোলে হেরে ফিরে এসেছে ইংলিশ ক্লাবটি। এই ম্যাচটি ছিল আর্না স্লট–এর শততম ম্যাচ, তবে আনন্দের বদলে তা হতাশার মাইলফলক হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হলো।
ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিকরা আক্রমণ চালায় এবং সপ্তম মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে গোল করে ম্যাচের প্রথম ও একমাত্র গোল করে মারিও লেমিনা। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে। গোল হজমের পর লিভারপুল ফিরে আসার চেষ্টা করলেও আক্রমণগুলো কাজে লাগাতে পারেননি ফ্লোরিয়ান রিটজ। ফলে হতাশার সঙ্গে প্রথমার্ধ শেষ করতে হয় ইংলিশ ক্লাবকে।
নিয়মিত গোলরক্ষক আলিসন বেকার–এর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জর্জি মামারদাসভিলি। তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন এবং ব্যবধান আরও বড় হতে দেয়নি। তবে লিভারপুলের আক্রমণ এখনও কার্যকর ছিল না এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। গ্যালাতাসারাইয়ের এক গোলের চেষ্টা হলেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ভিক্টর ওসিমেন–এর গোলও ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হয়। লিভারপুলের সমর্থকরা তখন আরও একবার সমতার স্বপ্ন দেখেন, যখন ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে বল জালে পাঠান। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায় গোল করার সময় বল তার হাতে লেগেছিল, ফলে সেই গোলও বাতিল হয়।
এই ম্যাচে লিভারপুলের আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখা গেল, তবে সৌভাগ্য দলের পক্ষেই ছিল না। শেষ পর্যন্ত একমাত্র গোলের ব্যবধানের কারণে তারা ঘরে ফিরল হতাশার সঙ্গে। কোচ আর্না স্লট–এর শততম ম্যাচটি আনন্দের মাইলফলক হিসেবে না হয়ে ক্লাবের ইতিহাসে হতাশার অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেল।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে লিভারপুলের আক্রমণগুলো ফলপ্রসূ হয়নি। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও গোল হয়নি, যা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলে। স্বাগতিকরা তাদের ডিফেন্স দৃঢ় রেখেছিল এবং যে কোনো ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এই নাটকীয়তা ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে দীর্ঘ সময়।
আগামী সপ্তাহে অ্যানফিল্ডে দ্বিতীয় লেগে মাঠে নামবে লিভারপুল। পিছিয়ে থাকা অবস্থায় তারা আরও বেশি চাপের মধ্যে খেলবে। দ্বিতীয় লেগে সমতা ফিরিয়ে আনা বা জয় নিশ্চিত করা হবে তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সমর্থকরা আশা করছেন, ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে লিভারপুল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলা করবে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে পথ প্রশস্ত করবে।
ম্যাচটি শুধু জয়ের বা হারের লড়াই নয়, বরং সমর্থক, খেলোয়াড় ও কোচদের আবেগের এক সমৃদ্ধ কাহিনী। শেষ মুহূর্তের নাটক, বাতিল গোল এবং ইনজুরিতে বদলি খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ফুটবলের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। লিভারপুলের জন্য এই ম্যাচ ছিল শিক্ষণীয় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির প্রেরণা।
স্লটের শততম ম্যাচে হারের ধাক্কা লিভারপুলকে সতর্ক করেছে, তবে দ্বিতীয় লেগে তাদের মনোবল ও কৌশল ব্যবহার করে সুযোগ কাজে লাগানোর প্রত্যাশা থাকবে। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন, অ্যানফিল্ডের মাঠে লিভারপুল কি সমতা ফিরিয়ে আনে নাকি গ্যালাতাসারাই জয় নিশ্চিত করে।